ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) এর জীবনী শারহু মায়ানিয়িল আছার রচনার পদ্ধতি


লেখকঃ মোঃ ইসমাইল হোসাইন

উপস্থাপনাঃ

হাদীসে এসেছে- من يرد الله به خيرا يفقهه في الدين
অর্থাৎ , মহান আল্লাহ যার প্রভূত কল্যাণ চান তাকেই দীনের পাণ্ডিত্য দান করেন । এ মুলনীতি অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা তার দীনের আলাে সর্ব ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে যুগে যুগে জীনের কাণ্ডারি পণ্ডিত ব্যক্তি প্রেরণ করেন ; যারা দীনের যাবতীয় বিষয় গবেষণা করে মানুষের চলার পথকে অতিশয় সহজ করে দেন । এমনি একজন দীনের কাণ্ডারি পণ্ডিত ব্যক্তি হচ্ছেন জগদ্বিখ্যাত যুক্তিবাদী ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) । নিম্নে তার সংক্ষিপ্ত জীবনী আলােচনা করা হলাে ।

নাম ও পরিচয়ঃ

তার নাম আহমদ , পিতার নাম মুহাম্মদ , দাদার নাম সালামা , উপনাম আবু জাফর। নিসবতী নাম তাহাবী , আযদী ,হাজরী , মিসরী।

নসবনামাঃ

তার নসবনামা হচ্ছে , আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ ইবনে আবদুল মালিক ইবনে সালামাহ ইবনে সুলাইম ইবনে সুলাইমান খাব্বাব আল আযদী আল হাজরী আল মিসরী আত তাহাবী আল হানাফী ।

জন্মঃ

আল্লাহর দীনের এ মহান খাদেম হিজরী ২২৯ সন মােতাবেক ৮৫১ খ্রিস্টাব্দে মিসরের গুরুত্বপূর্ণ জনপদ তাহা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।

শৈশবকালঃ

যিনি বড় হয়ে দীনের ঝাণ্ডাবাহী হবেন শৈশবকালেই সে নিদর্শন তাঁর জীবনে পরিলক্ষিত হয়েছে । শৈশবকালে তিনি অনুপম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন । তিনি কখনাে পাপাচার বা গর্হিত কাজের সাথে জড়িত ছিলেন না । জ্ঞানের প্রতি অসীম আগ্রহ তার জীবনের শুরুতেই দৃষ্টিগােচর হয় ।

শিক্ষাজীবনঃ

তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি হয় তারই মামা আবু ইবরাহীম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া মুযানী (র) – এর নিকট । মুযানী ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারী এবং তৎকালীন একজন বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ । তিনি তখন মিসরে অবস্থান করতেন । ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) ইলমে দীন শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে স্বীয় আবাসস্থল ত্যাগ করে মিসরে চলে আসেন এবং জ্ঞান সাধনায় আত্মনিয়ােগ করেন । তিনি সেখানে মিসরের বিচারপতি আহমদ ইবনে আবু ইমরান হানাফী (র) এর সংস্পর্শে আসেন এবং তার নিকট হানাফী ফিকহ অধ্যয়ন করেন । তিনি ইরাকী ফিকহের ওপর বিশেষ গবেষণা করেন এবং শেষ পর্যন্ত শাফেয়ী মাযহাব ত্যাগ করে হানাফী ফিকহের চর্চা ও গবেষণায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন । অতঃপর মিসর থেকে তিনি সিরিয়ায় চলে আসেন এবং সেখানকার বিশিষ্ট ফকীহ আবু হাযেম আবদুল হামীদ (র) – এর নিকট ফিকহে হানাফী অধ্যয়ন করেন । এভাবে তিনি ফিকহের বিশাল জ্ঞান ভাণ্ডার আয়ত্ত করেন ।

জ্ঞান অর্জনে বিদেশ সফরঃ

নিজ দেশের প্রায় সকল পণ্ডিতের কাছ থেকে জ্ঞানার্জন । শেষে ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) জ্ঞান অর্জনে বিদেশ সফর করেন । তিনি হিজরী ২৬৮ সনে প্রথমে সিরিয়া সফর করেন । এরপর ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিকহ অর্জনের জন্য পর্যায়ক্রমে বায়তুল মুকাদ্দাস , দামেশক ও আসকালানসহ পৃথিবীর বহুদেশ সফর করেন ।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দঃ
তিনি হাদীস , ফিকহ , তাফসীর , আরবি সাহিত্য , নাহু – সরফ , খালাত ও মানতিক ইত্যাদি বিষয়ে অসংখ্য শিক্ষকের নিকট জ্ঞানার্জন করেছেন । তাঁর শিক্ষকগণের মধ্যে উল্লেখযােগ্য কয়েকজন হচ্ছেন-
★ ইবরাহীম ইবনে আবু দাউদ বালাসী ।
★ আহমদ ইবনে সাঈদ ফাহরী ।
★ ইবরাহীম ইবনে মানকাদ খাওলানী ।
★ আবু বশীর আহমদ দুলাবী ।
★ ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ।
★ ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ।
★ ইবরাহীম ইবনে মারযুক বসরী ।
★ ইসহাক ইবনে হাসান ।
★ আহমদ ইবনে কাসেম কুফী ।
★ ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া মুযানী ।
★ আহমদ ইবনে দাউদ সাদুসী ।
★ বাহার ইবনে নসর আওলানী ।
★ আহমদ ইবনে সাহল রায় ।
★ বাকার ইবনে কুতাইবা ।
★ আহমদ ইবনে আসরাম মুযানী ।
★ মুহাম্মদ ইবনে সালামা তাহাবী (র)
★ আহমদ ইবনে মাসউদ মাকদাসী প্রমুখ।
তার ছাত্রবৃন্দঃ
তাঁর শিক্ষকগণের সংখ্যা যেমন অসংখ্য , তেমনি তাঁর ছাত্রের সংখ্যাও অনেক । যেসব ছাত্র তাঁর নিকট থেকে ইলমে দীন অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য কয়েকজন হচ্ছেন-
★ আবু মুহাম্মদ আবদুল আযীয ইবনে মুহাম্মদ আত তামিমী ।
★ আহমদ ইবনে কাসেম ইবনে আবদুল্লাহ আল বাগদাদী ।
★ আবু বকর মক্কী ইবনে আহমদ আল বারদায়ী ।
★ আবুল কাসেম মাসলামা ইবনে কাসেম ।
★ আবুল কাসেম ওবায়দুল্লাহ ইবনে আলী দাউদী ।
★ আল হাসান ইবনে কাসেম ।
★ আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল আখিমী ।
★ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম ।
★ আবু ওসমান আহমদ ইবনে ইবরাহীম ।
★ সােলায়মান ইবনে আহমদ তিবরানী (র) ।
তার অনুসৃত মাযহাবঃ
ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) জীবনের সূচনাতে তারই মামা । আবু ইবরাহীম ইসমাঈল ইবনে ইয়াহইয়া মুযানী (র) – এর দরবারে ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন শুরু করেন । এক্ষেত্রে তার মামা শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন বিধায় তিনিও এদিকেই ঝুঁকে যান । একপর্যায়ে তিনি শাফেয়ী মাযহাব পরিত্যাগ করে হানাফী ফিকহ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন । পরবর্তীতে তিনি হানাফী মাযহাবের একনিষ্ঠ অনুসারীতে পরিণত হন ।
মাযহাব পরিবর্তনের কারণঃ
ইমাম তাহাবী (র) প্রথমে তার মামার সাহচর্যের কারণে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন । পরবর্তীতে তিনি এ মাযহাব পরিত্যাগ করেন । এর কারণ হিসেবে আৰু ইয়ালা আল খলিলী (র) তার كتاب الارشاد নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে , মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আশ শারুতী ইমাম তাহাবী (র) – কে প্রশ্ন করেছিলেন , আপনি কেন আপনার মামার মাযহাব পরিত্যাগ করলেন ? উত্তরে তিনি বলেন , আমার মামা শাফেয়ী মতাবলম্বী হয়েও হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন । করতেন , তাই আমি তার মাযহাব ত্যাগ করেছি طبقات الفقهاء গ্রন্থে আল্লামা আবু ইসহাক সিরাজী (র) বর্ণনা করেন , ইমাম । তাহাবী (র) প্রথমে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন । একদা তাঁর মামা মুযানী (র) – এর নিকট ফিকহশাস্ত্র অধ্যয়ন করছিলেন । তখন মামা ভাগিনাকে বলে উঠলেন والله ما جاء منك شىء অর্থাৎ , আল্লাহর শপথ ! তােমার নিকট থেকে তেমন কিছু আসবে বলে আশা করা যায় না । ইমাম তাহাবী ( র ) এ কথা শুনে খুবই রাগান্বিত হন । মামার মাযহাব পরিত্যাগ করে হানাফী মাযহাবের অনুসারী হন । তারপর তিনি مختصر নামক গ্রন্থ রচনা করার পর এ মন্তব্য করেছিলেন যে , আমার মামার প্রতি আলাহ তায়ালা দয়া করেছেন , কারণ তিনি আজ বেঁচে থাকলে তাকে শপথের কাফফারা দিতে হতাে ।
এলামায়ে আহনাফের মধ্যে তার অবস্থানঃ
ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) নিজস্ব যােগ্যতা , মেধা ও মননশীলতায় ওলামায়ে আহনাফের মধ্যে অন্যতম স্থান দখল করে আছেন । আল্লামা কুফুভী الطبقات নামক গ্রন্থে ইমাম তাহাবী (র) – কে হানাফী । মাযহাবের ইমামগণের মধ্যে দ্বিতীয় স্তরের ইমাম হিসেবে গণ্য করেছেন । শাহ আবদুল আযীয (র) বলেন , ইমাম তাহাবী (র) লিখিত المختصر গ্রন্থটি দ্বারা এ কথা স্পষ্ট হয় যে , ইমাম তাহাৰী (র) নিজেই একজন মুজতাহিদ ছিলেন । তাই তিনি ইমাম আবু হানীফা (র) – এর মুকাল্লিদ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও কোনাে কোনাে মাসয়ালায় তিনি হানাফী মাযহাবের সাথে মতবিরােধও করেছেন । মাওলানা আবদুল হাই (র) ইমাম তাহাবী (র) – কে ওলামায়ে আহনাফের দ্বিতীয় স্তরে স্থান দিয়েছেন । তিনি বলেন , এক্ষেত্রে ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (র) – এর চেয়ে মর্যাদাগত দিক দিয়ে ইমাম তাহাবী (র) – এর স্থান মােটেও কম নয় । অন্যদিকে সাইয়েদ মুফতি আমীমুল ইহসান আল মুজাদ্দেদী আল বারাকাতী (র) | তাঁকে فقهاء احناف এর মধ্যে তৃতীয় স্তরে গণ্য করেছেন ।
তার ব্যক্তিত্বঃ
ইমাম তাহাবী (র) – এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে আল্লামা আইনী (র) তার نخب الافكار গ্রন্থে বলেছেন , ইমাম তাহাবী (র) – এর নির্ভরযােগ্যতা , আমানতদারী , মর্যাদার পূর্ণতা , হাদীসের দক্ষতা , নাসেখ মানসুখ ও হাদীসের পার্থক্যকরণের দক্ষতার ব্যাপারে ইজমা হয়েছে । তারপর কেউ তার স্থান পূরণ করতে পারেননি । আল্লামা যাহাবী (র) তারিখে কবির গ্রন্থে লিখেছেন , তিনি ফিকহবিদ , মুহাদ্দিস , হাফেয , প্রখ্যাত ইমাম , নির্ভরশীল ও দৃঢ়প্রত্যয়ী ছিলেন । – মাসলামা ইবনে কাসেম কুরতুবী (র) বলেন , ইমাম তাহাবী (র) নির্ভরশীল মহামর্যাদার অধিকারী , ফিকহবিদ এবং আলেমগণের মতভেদপূর্ণ মাসয়ালায় অন্তদৃষ্টির অধিকারী ছিলেন ।
তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মন্তব্যঃ
ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) কুরআন , হাদীস , ফিকহ , উসূলে ফিকহের জ্ঞানসহ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী | ছিলেন । তাঁর পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বহু মনীষী বিভিন্ন মন্তব্য পেশ করেছেন । যেমন-
♦ আল্লামা সাময়ানী (র) বলেন-
كان إماما ثقة عاقلا لم يخلق مثله
♦ আল্লামা যাহাবী (র) تذكرة الحفاظ গ্রন্থে বলেন –
وكان رحمه الله يُقَةً تُبنَا فَقيها عالمًا لَم يخلق مثل
♦ আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতী (র) حقاظ الحديث গ্রন্থে বলেন-
وكان ثقة ثبتا فقيها لم يخلف بَعَهُ مِثله انتهت اليه راسَة الحنفيّة بمصر برع في الفقه والحديث وصفالتُصانيف البَدِيعة والكُتُب المفيدة 
♦ আল্লামা আবু ইসহাক আস সিরাজী (র) তার الطبقات নামক গ্রন্থে বলেন –
انتهت إلى أبي جعفر رياسة أصحاب ابي حيفة ( رح ) بمصر إلى اخر ما اوردناه من اليافعي
♦ আল্লামা আইনী (র) বলেন-
هو اعلمُ النّاس بمذهب أبي حنيفة
♦ আল্লামা ইতকানী (র) তাঁর غماية البيان গ্রন্থে বলেন-
لا معنى لإنكارهم على أَبي جعفر فَاِنّه تم تُتهم مع غزارة عليه واجتهاده وورعه وتَمَتَه في مَعرفَة الْمَذاهب عَيْرها فان في أَمره فَانْهُ عَنْ مُعَانى الأثارَ مَلَ تَرى لَهُ نظيرًا مَنْ سَار ش المذاهب فضلا عن مذهبنا
তাঁর রচনাবলিঃ
ইমাম আবু জাফর তাহাবী (র) বিভিন্ন বিষয়ে অনেক মূল্যবান গল্প রচনা করে গেছেন , যা তাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে । তার রচিত গ্রন্থাবলির মাকে উল্লেখযােগ্য গ্রন্থ হচ্ছে –
  • ★ شرح معاني الاثر
    ★ مُشك الاثار
    ★ أحكام القر
    ★ المختصر في الفقه
    ★ شرح الجامع الكبير
    ★ شرح الجامع الصّغير
    ★ كتاب الشرود الكبير
    ★ الشروط الاوسط
    ★ الشروط الصغير
    ★ الحاضر
    ★السّجلات
    ★ الوصايا
    ★ الفوايش
    ★ نقص كتاب المدلسين على القوسى
    ★ كتب العزل
    ★ مختصر الكبير
    ★ مختصر الصغير
    ★ تاريخ الكبير
    ★ مُجَلَ في مَنَاقب الإمام ألافه وفضلِ الْمُمَام ا م ابنَ جُبَيْنَة
    ★ النَّوادِرُ الْوَفَه
    ★ الحكايَات
    ★ حكم أرض مكة
    ★ قسم الفئ والغنائم
    ★ الرد على علي بن أبان
    ★ الرَةً عَلى آبي غبي
    ★ اختلاف الروايات على مذهب الكوفيين
    ★ عقيدة الطحاوي
    ★ شرح المُغنّي
    ★ سُنن الشافعي
    ★ كتاب النّحل
  • ★ مُشك الاثار
  • ★ أحكام القر
  • ★ المختصر في الفقه
  • ★ شرح الجامع الكبير
  • ★ شرح الجامع الصّغير
  • ★ كتاب الشرود الكبير
  • ★ الشروط الاوسط
  • ★ الشروط الصغير
  • ★ الحاضر
  • ★السّجلات
  • ★ الوصايا
  • ★ الفوايش
  • ★ نقص كتاب المدلسين على القوسى
  • ★ كتب العزل
  • ★ مختصر الكبير
  • ★ مختصر الصغير
  • ★ تاريخ الكبير
  • ★ مُجَلَ في مَنَاقب الإمام ألافه وفضلِ الْمُمَام ا م ابنَ جُبَيْنَة
  • ★ النَّوادِرُ الْوَفَه
  • ★ الحكايَات
  • ★ حكم أرض مكة
  • ★ قسم الفئ والغنائم
  • ★ الرد على علي بن أبان
  • ★ الرَةً عَلى آبي غبي
  • ★ اختلاف الروايات على مذهب الكوفيين
  • ★ عقيدة الطحاوي
  • ★ شرح المُغنّي
  • ★ سُنن الشافعي
  • ★ كتاب النّحل

ইন্তেকালঃ
ইবনে খালকান وفيات الأعيان গ্রন্থে ইমাম তাহাবী (র) – এর মৃত্যু প্রসঙ্গে বলেন ,
যুগশ্রেষ্ঠ ফিকহশাস্ত্রবিদ , আলােড়ন সৃষ্টিকারী জ্ঞানসাধক আল্লামা আবু জাফর তাহাবী (র) বিম্ববাসীকে শােক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে হিজরী ৩২১ সন মােতাবেক ৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে ৯২ বছর বয়সে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান । তাকে قرافة নামক স্থানে সমাহিত করা হয় ।
মায়ানিয়িল আছার – এর রচনা পদ্ধতিঃ
আল্লামা আবু জাফর তাহাবী (র) রচিত শরহু মায়ানিয়িল আছার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীগ্রন্থ । এটি তিনি এক অভিনব পদ্ধতিতে রচনা । করেছেন । বিশ্বব্যাপী ফিকহ ও হাদীসের অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে ; কিন্তু কোনাে গ্রন্থই এর মতাে চমৎকার সাজে সজ্জিত নয় । এ গ্রন্থের বর্ণনা পদ্ধতি সম্পর্কে
♦ আল্লামা অসি আহমাদ আস সুরতী (র) বলেন –
★ وضعه على نمط منشا لم يظفر به احد من أولى الأخبار . .
★ وأودع فيه ما يش به قناع فراني الأخبار . و
★ وسرد فيه الأحاديث بالفارِ رائقة تقرّ بسماعها عيون الاسماع
★ وسلك في سردها مال مُجبَةً مَالِقةً تُطرب لمُلاحظتها الطباع
অর্থাৎ ,
★ তিনি এ গ্রন্থটিকে এমন এক উৎকৃষ্ট পদ্ধতিতে তৈরি করেছেন , হাদীসবিশারদগণের কেউই এক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী হতে পারেননি ।
★ তিনি এ গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় গচ্ছিত রেখেছেন , যা হাদীসসমূহের গুপ্ত রহস্য উন্মােচন করে দেয় ।
★ তিনি এ গ্রন্থে এমন অনেক সুস্পষ্ট হাদীস বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন , যা শ্রবণে শ্রোতারা আগ্রহী হয়ে ওঠে ।
★ তিনি এর বর্ণনায় এমন এক বিস্ময়কর পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন , যা নিয়ে আলােচনা করতে হৃদয় আন্দোলিত হয় ।
উপসংহারঃ
ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত তাহাবী (র) ছিলেন বিস্ময়কর প্রাতভার অধিকারী এক কালজয়ী মহাপুরুষ । তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আর অতুলনীয় । পাণ্ডিত্যের কারণে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে তিনি বিশেষ মর্যাদার আসন দখল করে আছেন । তার আচত গ্রন্থাবলি যুগে যুগে জ্ঞানপিপাসুদের তপ্ত করবে । বিশেষ করে তার রচিত شرح معاني الآثار গ্রন্থটি হানাফী মাযহাবকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ।