খতমে ইউনুস পড়ার নিয়ম

খতমে ইউনুস পড়ার নিয়ম
খতমে ইউনুস পড়ার নিয়ম

লেখকঃ মোঃ ইসমাইল হোসাইন

খতমে ইউনুস। এখানে খতম শব্দটি আরবি, এর অর্থ হলো শেষ,পরিপূর্ণ। আর ইউনূস হলো একটি নাম। এই নামটি হলো আল্লাহর নবি হযরত ইউনুস আঃ এর। এই খতমে ইউনূসকে বড় খতম হিসেবেও জানা হয়ে থাকে।

খতমে ইউনূস সম্পর্কে জানতে হলে যেতে হবে আল্লাহর নবি হযরত ইউনূস আঃ এর সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার দিকে। আল্লাহর নবী ভুল করে আল্লাহর অনুমতি ব্যতিত নিজ এলাকা ছেড়ে যখন চলে যায় ঘটনাক্রমে তিনি গভীর সাগরে নিক্ষিপ্ত হন।তখন আল্লাহর হুকুমে একটি মাছ নবি ইউনূস আঃ কে খেয়ে পেলে। কিন্তু সেই মাছ নবিকে কোন রকমের ক্ষতি করতে পারেনি। হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণ পাওয়া যায়,নবী ইউনূস কঠিন থেকে কঠিন অন্ধকারে নিমজ্জিত হন। সেই মাছের গর্ভে দীর্ঘদিন থাকার পর আল্লাহর নবি নিজের ভুল বুজতে পারেন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এই বলে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন-
لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

'লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।'

অর্থ : তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি জালিমদের দলভুক্ত।'


অতপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।' (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)।

হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-


'যুননুন (মাছ ওয়ালা) ইউনুস আলাইহিস সালাম মাছের পেটে দোয়া করেছিলেন-


 لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنتُ مِنَ الظَّالِمِينَ


'লা ইলাহা ইল্লা আংতা, সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বালিমিন।'


অর্থাৎ 'তুমি ব্যতীত সত্য কোনো উপাস্য নেই; তুমি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয় আমি গোনাহগারদের দলভুক্ত। যখনই কোনো মুসলিমের (দোয়া ইউনুস) মাধ্যমে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার দোয়া কবুল করে থাকেন।' (তিরমিজি, মিশকাত)


খতমের উদ্যেশ্যঃ

যে কোনো বালা-মসিবত, বিপদাপদ, দুশ্চিন্তা-পেরেশানি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ইত্যাদি থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যে দোয়া ইউনুস পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর আমল।
এই খতমে উদ্দেশ্য থাকে মূলত আল্লাহ তায়ালা যেনো বিপদ থেকে উদ্ধার করেন।
যখন কোন বিপদ এলাকা ভিত্তিক বা পরিবারে চলে আসে,তখন এই খতমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে পানাহ চাওয়া হয়। বিশ্বাষ থাকে এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ যেমন নবি ইউনূস আঃ কে বাছিয়েছেন,তেমনি ভাবে আমাদেরকেও তিনি বাচাবেন।


খতমের নিয়মঃ

কিন্তু এ দোয়া ইউনুস কখন, কীভাবে এবং কতবার পড়তে হয়? সমাজে প্রচলিত খতমে ইউনুস উপলক্ষে বিভিন্ন সংখ্যায় এ দোয়া পড়ার কি সঠিক?


দোয়া উইনুস পড়ার নিয়ম হলো মহান আল্লাহর কাছে একান্ত বিনয় ও নম্রতা, একাগ্রতা, পূর্ণ আন্তরিকতা ও ভয়ভীতির মাধ্যমে যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা। 

এই দোয়াটি সোয়া লক্ষবার অর্থাৎ ১ লক্ষ ২৫ হাজারবার পড়ার মাধ্যমে এটির খতম সম্পূর্ণ হবে।

দোয়াটি প্রতি ১০০ বার পাঠ করার পর অথবা দোয়া ইউনুস অনেকবার পাঠ করার মাঝে মাঝে এই আয়াতটি একবার বা একাধিকবার পাঠ করবে। দোয়াটি হলো-

فَاسْتَجَبْنَا لَهُ وَنَجَّيْنَاهُ مِنَ الْغَمِّ ۚ وَكَذَٰلِكَ نُنجِي الْمُؤْمِنِينَ

অতপর আমি তাঁর আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাঁকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এমনি ভাবে বিশ্ববাসীদেরকে মুক্তি দিয়ে থাকি।' (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ৮৭)
এটি স্বভাবিক ভাবে অনেক আলেমগন মিলে অথবা সমাজের মানুষ একত্রিত হয়ে এই দোয়াটি পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বিপদ আপদ থেকে মুক্তি চেয়ে থাকেন। আবার কেউ যদি একাকী এটির খতম আদায় করতে চায় তাতেও কোন সমস্যা নেই।