খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম ও দোয়া গুলো জেনে নিন

খতমে খাজেগান যেভাবে পড়বেন
খতমে খাজেগান

লেখকঃ মোঃ ইসমাইল হোসাইন

খতমে খাজেগান পড়ার নিয়ম

কয়েকজন লোকে একত্রিত হবেন ৫ জনের বেশি হলে ভালো হয়। সাধারন মানুষ না হয়ে কয়েকজন আলেম আনলে ভালো হবে কারন অনারা নিয়ম ও দোয়া সমূহ ভাল করে জানেন। এরপর দোয়া গনণার জন্যে তাসবিহ বা অন্য কোন উপায় অবলম্বন করবেন। সামান্য পরিমান চিনি এবং পানি সামনে নিয়ে বসবে সবাই। একজন নেতা হবে যিনি এই দোয়ার অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন অর্থাৎ কখন কোন দোয়া পড়বে কতবার পড়বে ,কতবার পড়া হলো সকল কিছুর দেখাশুনা ও হিসেব রাখবেন।
খতবে খাজেগান আদায়ে আপনাকে কতগুলো ধাপ অবলম্বন করতে হবে, প্রতিটি ধাপে ধাপে নতুন নতুন দোয়া পড়তে হবে, নিম্নে ধাপগুলো আলোচনা করা হলো-


(ধাপ নং-০১) সূরা ফাতেহা ৭ বার,

(ধাপ নং-০২) ১০০ বার দুরূদ শরীফ,

(ধাপ নং-০৩) সূরা আলাম নাশরাহলাকা ৭৯ বার

(ধাপ নং-০৪) সূরা ইখলাছ ১০০০ বার ,

(ধাপ নং-০৫) দুরূদ শরীফ ১০০ বার ।


(ধাপ নং-০৬) তারপর ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ قَاضِىَ اَلحَاجَاتِ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া ক্বাদিয়াল হাজাত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হে হাজতসমূহ পূর্ণকারী।


(ধাপ নং-০৭) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

 اَللٰهُمَّ ياَ كَافِىَ اَلمُهِمَّاتُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া কা-ফিয়াল মুহিম্মাত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হে গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সস্পাদনকারী!


(ধাপ নং-০৮) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ دَافِعَ اَلبَلِيَاتُ

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া দাফিয়া’ল বালিইয়্যাত,

অর্থ- হে আল্লাহ্! হে বিপদসমূহ প্রতিরোধকারী!


(ধাপ নং-০৯) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُجِيبَ الدَّعوَاتُ ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুজিবাদ্ দায়’ওয়াত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে প্রার্থনাসমূহ কবুলকারী!


(ধাপ নং-১০) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ رَافِعَ اَلدَّرَجَاتُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া রা-ফিয়া’দ্ দারাজাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে মর্যাদাসমূহ উন্নয়নকারী!


(ধাপ নং-১১) এই দোয়াটি ১০০ বা পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُسَبِّبَ الاَسبَاب٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুছাব্বিবাল আছবাব,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল উপকরণের ব্যবস্থাপক!


(ধাপ নং-১২) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُفَتِّحَ الاَبوَابُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুফাত্তিহাল আবওয়াব,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে দরজাসমূহ (রহমতের) উম্মুক্তকারী!


(ধাপ নং-১৩) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ حَلاَّلَ المُشكِلاَتُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া হাল্লালাল মুশকিলাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে বিপদসমূহ থেকে মুক্তিদানকারী!


(ধাপ নং-১৪) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বে-

اَللٰهُمَّ ياَ نَاصِرَ الطَّيِّبَاتُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া না-সিরাত্ ত্বাইয়্যিবাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে উত্তম কার্যাবলির সাহায্যকারী!


(ধাপ নং-১৫) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ وَلِىَ الحَسَنَاتُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া ওয়ালিয়্যাল হাছানাত,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে কল্যানসমূহের অধিকারী!


(ধাপ নং-১৬) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ شَافِىَ المَرضٰى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া শাফিয়াল মারদ্বা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে রোগীদের আরোগ্যদানকারী!


(ধাপ নং-১৭) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُنجِىَ الهَلكٰى ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুনজিয়াল হালকা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে ধবংশ প্রাপ্তদের উদ্ধারকারী!


(ধাপ নং-১৮) এই দোয়াটি ১০০ বা পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُنقِذَ الغَرقٰى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুনক্বিজাল গারক্বা,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে ডুবন্তদের উদ্ধারকারী!


(ধাপ নং-১৯) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ شَاهِدَ كُلِّ نَجوٰى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া শা-হিদা কুল্লি নাজওয়া,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল গোপন বিষয়ের দ্রষ্টা!


(ধাপ নং-২০) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ مُنتَهٰى كُلِّ شَكوٰى٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া মুনতাহা কুল্লি শাকওয়া,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে সকল অভিযোগের প্রান্তসীমা!


(ধাপ নং-২১) এই দোয়াটি  ১০০ বা পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ غِيَاثَ المُستَغِيثِينَ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া গিয়া-ছাল মুসতাগীসীন,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে আর্তনাদকারীদের আর্তনাদ শ্রবণকারী!


(ধাপ নং-২২) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ ذَاالجَلاَلِ وَالاِكرَامِ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে মহত্ব ও দয়ার অধিপতি!


(ধাপ নং-২৩) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ حَىُّ يَا قَيُّومُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া হাইয়্যু, ইয়া ক্বাইয়্যুম,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে চিরঞ্জিব, হে সবকিছুর ধারক!


(ধাপ নং-২৪) এই দোয়াটি ১০০ বা পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ سَلاَمُ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া সালামু,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে শান্তিদাতা!


(ধাপ নং-২৫) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

اَللٰهُمَّ ياَ اَرحَمَ الرّٰحِمِينَ٠

উচ্চারণ- আল্লাহুম্মা ইয়া আরহামার রা-হিমীন,

অর্থ- হে আল্লাহ! হে দয়ালুদের বড় দয়ালু।


(ধাপ নং-২৬) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন-

 فَسَهِّلْ يَا اِلَهِى كُلَّ صَعْبٍ بِحُرمَةِ سَيِّدِ الاَبْرَارِ

উচ্চারণ- ফাছাহ্হিল ইয়া ইলাহি কুল্লা স্বায়’বিন বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল আবরার ।

অর্থ- হে আল্লাহ! নেক্কারগণের ছরদার হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ইজ্জতে আমার প্রত্যেক কঠিন কাজ সহজ করে দাও! 


(ধাপ নং-২৭) এই দোয়াটি ১০০ বার পড়বেন

 سَهِّلْ بِفَضْلِكَ يَا عَزِيز

উচ্চারণ-ছাহ্হিল বিফাদ্বলিকা ইয়া আজীজ

অর্থ-হে ক্ষমাশীল! তোমার দয়া দ্বারা সহজ করে দাও!

এভাবে পড়ার পর আবারো কয়েকবার দরুদ শরীফ পাঠ করে মুনাজাত দিবে এবং আল্লাহর কাছে যে উদ্যেশে আয়োজন তা উল্লেখ করবে। দোয়া শেষে চিনি ও পানি ছোট ছোট বাচ্ছাদের দিয়ে দিবে খাওয়ার জন্যে। এখানে অবশ্যই মনে রাখবেন বিপদ-আপদ,রোগ দেন আল্লাহ আবার শেফাও করেন আল্লাহ এমন বিশ্বাস মনে রাখবে। এই দোয়া বিপদ থেকে বাছাবে না, রোগ মুক্তি দিবে না। বিপদ থেকে বাছানোর মালিক আল্লাহ,রোগ শেফা করার মালিক আল্লাহ। এটি একটি উচিলা মাত্র। আল্লাহ আমাদের কবুল করুক।আমিন।