পানির অপর নাম জীবন কেন পানি কিভাবে সৃষ্টি হলো

 


মোঃ রোমান হোসাইনঃ 

পানি সৃষ্টির রহস্য।

আল্লাহ তায়ালা পাক কালামে এরশাদ করেন

وَجَعَلْنَا مِنْ الْمَا ءِكُلَّ شَئٍْ حَىٌّ اَفَلَا يُؤْ مِنُوْنَ

অর্থাৎ ,আর আমি প্রাণবন্ত সবকিছু পানি থেকে সৃষ্টি করলাম এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।তারপর সে পানি দ্বারা আমি মনােরম উদ্যান সৃষ্টি করেছি।তার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার শক্তিই তােমাদের নেই।

(সূরা আম্বিয়াঃ৩০) 

 فَاَنْبَتْنَابِهِ اَحَدَاءِقَ ذَاتَ بِهْجَةٍ مَاكَانَ لَكُمْ اَنْ تُنْبِتُوْا شَجَرَهَاءَاِلَهٌ مَّعَ اللهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَّعْدِلُوْنَ   

অর্থাৎ,অতএব আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি?বরং তারা সত্য বিচ্যুত সম্প্রদায়।(সূরা নমল:৬০) 

জীবনের জন্য পানি একটি অতিশয় অপরিহার্য বস্তু।মানুষ ,পশু ,বৃক্ষ ,তরু -লতা নির্বিশেষে সকলেরই বেঁচে থাকার জন্য পানি অত্যন্ত অপরিহার্য।আর আল্লাহ তায়ালা এরূপ একটি অপরিহার্য বস্তুকে অফুরন্ত সৃষ্টি করেছেন,যা তাঁর অসীম কুদরত ও অনুগ্রহেরই সাক্ষ্য বহন করে।পানির যথার্থ মূল্য মানুষ তখনই অনুধাবন করতে পারে যখন সে প্রচণ্ড তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে । তখন এক ঢােক পানির জন্য নিজের সর্বস্ব দিয়ে দিতেও সে সামান্যতম দ্বিধা করে না । অথচ মানুষ আল্লাহর এমন একটি অপরিহার্য অনুগ্রহের ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে দ্বিধান্বিত।এটা আল্লাহর অসীম অনুগ্রহ যে তিনি এরূপ প্রয়ােজনীয় বস্তুকে অধিক পরিমাণে এবং ব্যাপক ও বিস্তৃত করে সৃষ্টি করেছেন যা পৃথিবীর প্রায় সকল স্থানেই সহজলভ্য।মানুষ ,পশু ,বৃক্ষ- লতা সকলেই স্ব -স্ব স্থানে তৃষ্ণার মুহূর্তে পানি পান করতে পারে।পানি যদি অন্যান্য দ্রব্যের ন্যায় স্বল্প পরিমাণে ও দুর্লভ হতাে,তাহলে সকলের পক্ষেই জীবন ধারণ দুরূহ হয়ে পড়তাে ;বরং সৃষ্টির গতিই ব্যহত হত।

এবার লক্ষ্য করা ;আল্লাহ তায়ালা পানিকে কিরূপ তরল ও সূক্ষ করে সৃষ্টি করেছেন।আকাশ থেকে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন তা বৃক্ষ ও তরলতার মূলে গিয়ে পৌছে সেগুলাের খাদ্যে পরিণত হয়।অতঃপর সূর্যের তাপে আবার তা বাম্পে।পরিণত হয়ে উপরে উঠে যায়।পানির অতি সূক্ষ্মতা খাদ্য পাকস্থলীতে পৌছতে এবং হজম করতে সাহায্য করে।মানুষ যখন পিপাসার্ত হয় তখন পানি পান করে এক অমৃত স্বাদ লাভ করে।এতে তার সকল ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়ে যায়।দেহে ফিরে আসে সতেজতা ও নতুন প্রাণ।তাছাড়া নিয়মিত পানি পান করা দ্বারা অনেক জটিল ও দূরারােগ্য ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। শ্রমিক সারাদিন কাজ কর্মের পর যখন পরিচ্ছন্ন শীতল পানিতে গােসল করে এবং এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি পান করে,তখন তার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।শরীরে ফিরে আসে নতুন শক্তি ও অমেজ।মানুষ যখন চরম ক্রোধে উত্তেজিত হয়ে পড়ে তখন পানি পান করালে তা কিছুটা লাঘব হয়।তাছাড়া পানির মিশ্রণ ব্যতীত খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত হয় না। বললেই চলে।পানি দ্বারা নানা ধরনের সুপেয় শরবত বা পানীয় তৈরী করা হয়।

পানি দিয়ে মানুষ অজু-গােসল করে পবিত্রতা অর্জন করে।এতে শরীরের ময়লা দূর হয় এবং শরীর সুস্থ্য থাকে।ময়লা অপরিচ্ছন্ন ও অপবিত্র কাপড় -চোপড় এবং অন্যান্য আসবাবপত্র ধুয়ে পরিষ্কার ও পবিত্র করে। অন্যান্য প্রাণীও পানি পান করে তৃষ্ণা মিটায় , পানিতে ভিজে নিজের শরীর শীতল ও পরিষ্কার করে এবং নানাবিধ উপকার লাভ করে।

ইট ,মাটি ,বালু ইত্যাদি মিশ্রণের ক্ষেত্রে এবং নরম করতে পানি অপরিহার্য।পানি অতি সূক্ষ হওয়ার কারণে অতি সহজেই এগুলাের সাথে মিশে যায়।এতে মানুষ ঘর - বাড়ী ,ইমারত সহজে নির্মাণ করতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় পানি ছাড়া কোন গতি থাকে না।জ্বলন্ত অগ্নিশিখার উপর পানি ঢেলে দিলে তা নির্বাপিত হয়।পানির যে আরাে কত উপকারিতা রয়েছে তা এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে বর্ণনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।এই অফুরন্ত নিয়ামত আমরা কি পরিমাণে যে ভােগ করছি তার কোন পরিসংখ্যান নেই।মহান আল্লাহ তায়ালা যদি এত অধিক পরিমাণে পানি সৃষ্টি না করতেন।তাহলে জীবন -যাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতাে এবং প্রাণীর পক্ষে জীবন ধারণ করাই অসম্ভব হয়ে পড়তাে।লক্ষ -কোটি শােকর সেই করুণাময় আল্লাহর দরবারে যিনি পানিকে অধিক পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে পৃথিবীর সর্বত্র বিস্তৃত করে দিয়েছেন।যাতে তার ব্যবহার আমাদের জন্য সহজ ও ব্যাপক হয় , যেন আমাদের জীবন - যাত্রা গতিময় ও শান্তিময় হয়।আল্লাহ পাকের এসব অফুরন্ত অনুগ্রহ ও নিয়ামতের হিসেব করতে যাওয়া বেয়াকুবী ছাড়া অপর কিছু নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক এরশাদ করেন।

اِنْ تَعُدُّوْا نِعْمَةَ اللهِ لاَتُحْصَوْهَا

যদি তােমরা আল্লাহর নিয়ামত গণনা করাে তবে গুণে শেষ করতে পারবে না।

(সূরা ইবরাহীমঃ৩৪)