সাগর সমূহ কিভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করলেন

 

সাগর সমূহ কিভাবে আল্লাহ  সৃষ্টি করলেন



মোঃ রোমান হোসাইনঃ 

সাগর সৃষ্টির রহস্য।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَهُوَالَّذِىْ سَخَّرَ الْبَحْرَلِتَأْكُلُوْامِنْهُ لَحْمًاطَرِيًّا

অর্থাৎ,আল্লাহ সমুদ্রকে তােমাদের অনুগত করে দিয়েছেন ,যেন তােমরা তা থেকে তাজা মাছ খেতে পারাে।( সূরা নাহলঃ১৪)

মহান আল্লাহ তায়ালা সমুদ্রকে বিশাল ও বিস্তৃত করে সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে নিহিত রয়েছে অসংখ্য মঙ্গল।আর সমুদ্রকে স্থলভাগের চতুর্পাশে এমনভাবে পরিবেষ্টিত করে সৃষ্টি করেছেন ,যেন বিশাল সমুদ্রের বুকে স্থলভাগ একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ,যার চতুর্পাশে অথৈ পানি রাশি।স্থলভাগে যত ধরনের ও যত সংখ্যক জীব -জন্তু রয়েছে ,সমুদ্রে রয়েছে তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশী।আর সেখানে আছে এমনসব বিস্ময়কর ও অদ্ভুত অদ্ভুত জীব - জন্তু এবং নানাবিধ উদ্ভিদ যা আল্লাহর অসীম কুদরত ও সৃষ্টির কুশলতারই স্বাক্ষর বহন করে।সমুদ্রের কিছু কিছু প্রাণী এমন বিরাটকায় , যদি তাদের দেহের কোন অংশ বিশেষ পানির উপর ভেসে উঠে তবে তা ছােটখাটো একটি পাহাড় বলে ভুল হবে। স্থলভাগে যেমন গরু ,ছাগল ,ভেড়া ,মহিষ, পাখি ইত্যাদি নানা শ্রেণীর প্রাণী রয়েছে , সমুদ্রে তার চেয়েও কয়েকগুন বেশী এবং নানা শ্রেণীর জীব-জন্তুর বাস রয়েছে।বরং বলা যায়,সমুদ্রে যত ধরনের ও যত সংখ্যক প্রাণী রয়েছে স্থলভাগে তা অনুপস্থিত।আল্লাহ পাক তার অসীম কুদরত ও বিশেষ মেহেরবানীতে সেখানে তাদের জীবন ধারনের ভিন্ন ভিন্ন।উপকরণ সৃষ্টি করে রেখেছেন।তা ছাড়া সমুদ্রে যে পরিমাণ সুগন্ধি-দ্রব্য ও মুল্যবান মনি-মুক্তা,রত্ন পাওয়া যায়,স্থলভাগে তা পাওয়া যায় না।যদি এ সবের বিস্তারিত বিবরণ লিখা হয় তাহলে তা এক বিশাল গ্রন্থে পরিণত হবে।

আল্লাহ পাক অতিশয় চমৎকার কৌশলে ঝিনুকের ভিতর মােতি উৎপন্ন করেন এবং সমুদ্রের তলদেশে পাথুরে চটানের নীচে কিভাবে প্রবালকে সংরক্ষণ করেন !

আল্লাহ পাক এরশাদ করেন 

يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُّؤْ وَالْمَرْجَانِ

অর্থাৎ ,উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মােতি ও প্রবাল।(সূরা রহমান২২) 

কোরআনে উল্লেখিত মারজান( সামুদ্রিক কীটবিশেষ থেকে সৃষ্ট প্রবাল বা রত্নবিশেষ ) সম্পর্কে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষকগণ বলেছেন যে , এটা এক ধরনের মােতি , তবে তা আকারে কিছুটা ছােট ও চিকন।

অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিয়ামত ও অনুগ্রহ দানের কথা উল্লেখ করে বলেন 

فَبِاَىِّ الاَءِرَبِّكُمَاتُكَذِّبَانِ

অর্থাৎ অতঃপর তােমরা তােমাদের প্রভূর কোন্ কোন্ অবদানকে অস্বীকার করবে ? 

(সূরা রহমানঃ২৩)

আয়াতে বর্ণিত “ আ - লা ” শব্দের অর্থ দান বা অনুগ্রহ।এ ছাড়াও সমুদ্রের বুকে আম্বরসহ মহা মূল্যবান নানান সম্পদ আল্লাহ পাক সৃষ্টি করে রেখেছেন । এবার লক্ষ্য করাে ; সমুদ্রকে আল্লাহ পাক মানুষের অনুগত করে দিয়েছেন।এবং মানুষকে সমুদ্রের উপর ক্ষমতা দান করেছেন। পানির উপর বিরাট বিরাট নৌকা - জাহাজ ভেসে চলে।এসব নৌকা ও জাহাজে করে মানুষ বহু মালামাল পারাপার করে এবং দেশ - দেশান্তরে যাতায়াত করে।( বিজ্ঞানের প্রায় চূড়ান্ত সফলতার যুগেও এর বিকল্প নেই) পানির উপর দিয়ে যাতায়াতের এ সুব্যবস্থা যদি থাকতাে তাহলে বহু প্রয়ােজনীয় পণ্যসামগ্রী দেশ থেকে দেশে স্থানান্তর অসম্ভব হয়ে পড়তাে এবং ব্যবসা - বাণিজ্য ব্যাহত হতাে।যার অনিবার্য পরিণতি হিসেবে। জীবন যাত্রা হয়ে পড়তাে অত্যন্ত দুরূহ ও কষ্টসাধ্য।

এ বিষয়ে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআন শরীফে এরশাদ করেন-

وَالْفُلْكِ الَّتِىْ تَجْرِىْ فِىْ الْبَحْرِبِمَا يَنْفَعُ النَّاسُ-

অর্থাৎ “ জাহাজগুলাে সমুদ্রের বুকে চলাচল করে ,যাতে লােকেরা উপকৃত হচ্ছে।

(সূরা বাকবারাঃ১৬৪)

আল্লাহ তায়ালার কুদরত ও মহিমার আরেকটি নিদর্শন এই যে তিনি পানিকে অত্যন্ত তরল ও প্রবাহমান করে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি একে এরূপ অখন্ড ও সংমিশ্রণশীল করে সৃষ্টি করেছেন যে সারা পৃথিবীর সমস্ত পানি একত্রে একই জলাশয়ে রাখা যাবে।পৃথিবীর সমস্ত পানিকে যেমন সহজে পরস্পরে মিশ্রিত করা যায় তেমনি আবার সহজেই পৃথক করা যায়।এক স্থানের পানি অন্য স্থানের পানির সাথে মিশ্রিত হয়ে এক অভিন্ন দেহে পরিণত হয়।আবার তাকে সহজে পৃথকও করা যায়।পানি এরূপ বহমান ও তরল বিধায় তার উপর দিয়ে বিভিন্ন জলযান অনায়াসেই চলাচল করতে পারে। অন্যথায় এর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করা কিছুতেই সম্ভব হতাে না।

মহান আল্লাহ তায়ালার এসব অফুরন্ত নিয়ামত ও রহমতের বিষয়ে যারা অজ্ঞ বা উদাসীন তাদের অজ্ঞানতা ও উদাসীনতার জন্য তাদের প্রতি আফসােস ও করুণা ছাড়া কিছুই করার নেই।অথচ এই বিশাল সৃষ্টিজগতের আকাশ ভূমণ্ডল ,পর্বত ও সাগর থেকে অণু -পরমাণু পর্যন্ত সব কিছুতেই রয়েছে এক আল্লাহ তায়ালার অসীম কুদরত ও সৃষ্টিকুশলতার সুস্পষ্ট নিদর্শন।

وَفِيْ كُلِّ شَئٍْ لَهُ اَيَةٌ تَدُلُّ عَلَى اَنَّهُ وَاحِدٌ

অর্থ ও প্রতিটি বস্তুতে রয়েছে আল্লাহর নিদর্শন ,যা তাঁর একত্বের সাক্ষ্য বহন করে।

 আল্লাহ পাকের এসব সৃষ্টি যেন মানব সমাজকে আহবান করে বলছে ,হে মানব জাতি !তােমাদের দৃষ্টির সামনে থেকে অজ্ঞতার ভারী পর্দা সরিয়ে অন্তর - দৃষ্টি মেলে দেখ।আল্লাহ পাক তােমাদের জন্য কত উপকারী ও প্রয়ােজনীয় নিয়ামতসমূহ সৃষ্টি করেছেন।এক আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কেহ কি সৃষ্টিকর্তা আছে ? অথচ তােমরা তার সাথে শিরক করছাে।জগতের যাবতীয় যা কিছু লা-শরীক সেই এক আল্লাহ তায়ালাই সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি এসব কিছু মানব জাতির মঙ্গলের জন্য সৃষ্টি করেছেন।