আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার একটি কৌশল

 

 


 

 কিভাবে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হবো

আপনি এত কষ্ট করছেন , অথচ আপনার পূর্বাপর সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে । বলেছিলেন আম্মাজান আয়েশা সিদ্দিকা ( রা . ) দোজাহানের বাদশাহ হযরত রাসূলুল্লাহ সাঃ কে উদ্দেশ্য করে । রাত জেগে জেগে দাড়িয়ে নামাজ পড়তে পড়তে তার পা মােবারক ফুলে যেত , তাই এই অনুযােগ । উত্তরে নবী - বলেছিলেন , আমার কি উচিৎ নয় যে , এই মহা অনুগ্রহের জন্য আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে আমি একজন পূর্ণ শােকর আদায় কারী বান্দাহ হব ? ( সহীহ বুখারী শরীফ ) ।
কিয়ামুল লাইল , রাত জেগে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নামাজ , মুমিনের মর্যাদার সিড়ি । জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম উপায় । সফলতার চাবিকাঠি । আল্লাহর একান্ত ও প্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম । রাসূলে কারীম সাঃ ] কখনও তাহাদের নামাজ ছাড়েননি । ছুটে গেলে কাজা করতেন । নিজে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উৎসাহিত করতেন । হযরত জিবরীল ( আ . ) আল্লাহর হুকুমে নবীজির খেদমতে আসতেন । আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাঝে ওহীর জ্ঞান ও উধ্বংজগতের খবর পৌছানাের গুরুদায়িত্বটা ন্যস্ত ছিল তার কাঁধে । নবীজির কাছে আসতেন এবং কিছু উপদেশ ও নসীহত শুনিয়ে আবার সরে যেতেন মানব পরিবেশ থেকে ।
একদিন উপদেশ শুনানাের পর তিনি নবীজীকে একটি অসাধারণ দর্শন জানালেন , তা হল ; হে মুহাম্মদ মুমিনের মর্যাদা কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ রাতে দাড়িয়ে নামাজ আদায় ও বিভিন্ন বন্দেগীর মধ্যে । আর তাঁর সম্মান মানুষ থেকে অমুখাপেক্ষিতার মধ্যে । ( মুসতাদরাকে হাকেম
পাঁচওয়াক্ত নামাজ মুমিনের পরিচয় এর গুরুত্ব অপরিসীম । এরপরই যে নামাজের গুরুত্ব বেশী ও আল্লাহর কাছে প্রিয় তা হলাে তাহাজ্জুদ ।
হযরত আবু হুরায়রা ( রা . ) বর্ণনা করেন , রাসূলে আকরাম সাঃ এরশাদ করেন । রমজানের পর রােযা রাখার উত্তম সময় মুহাররম মাস আর ফরয নামাজের পর উত্তম নামাজ রাতের নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদ । ( সহীহ মুসলীম )
এ আমল নবীজি কখনাে ছাড়েন নি । প্রিয় জিনিস কি কেউ কখনও ছাড়তে পারে ? আর যদি সাথে যুক্ত হয় মজবুত ঈমান ও সওয়াবের আশা , হৃদয়ে থাকে প্রভুর প্রতি ভালােবাসা এবং আমলের অদম্য প্রেরণা তখন কাঠিন কাজও হয়ে যায় অতি সহজ । হ্যা আমাদের জন্য এর সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত প্রিয়নবী সাঃ । তার জীবনসঙ্গিনী ও মুমিন জননী হযরত আয়েশা ( রা . ) এর জবান থেকেই একটি বিবরণ শুনুন ;
হযরত উরওয়াহ ( রা . ) বলেন , হযরত আয়েশা ( রা . ) বলেন ; নবীজী রাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এত বেশী নামাজ পড়তেন যে , তার পা মােবারক ফুলে যেত , এ দেখে তিনি বললেন , হে আল্লাহর রাসূল ! আপনি এত করতেছেন , অথচ আপনার পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে । রাসূলুল্লাহ ( সাঃ ) বললেন , আমার কি উচিৎ নয় যে , ( এই মহা অনুগ্রহের জন্য আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে ) । আমি একজন পূর্ণ শােকর আদায় কারী বান্দা হব ? ( সহীহ বুখারী ) ।
রাসূলে আরাবী কখনাে সেচ্ছায় তাে ছাড়তেনই না , কখনাে অনিচ্ছায় ছুটে গেলেও কাযা আদায় করতেন । উম্মুল মুমিনীন হযরত আহোম ' হিফিকা ( রা . ) থেকে বর্ণিত , রােগ ব্যধি কিংবা অ - বাদি রাসূল - তাহাজ্জুদ আদায় করতেন, তবে দিনের বেলায় ১২ রাকাত নামাজ আদায় করে নিতেন । ( সহীহ মুসলিম )
অন্য বর্ণনায় আছে , হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কাইম ( রা . ) কে হযরত আয়েশা ছিদ্দিকা ( রা . ) বলেনঃ হে আব্দুল্লাহ ! কিয়ামুল লাইল কখনাে ছেড় না । কেননা নবীজি ; তা কখনাে ছাড়েননি । কখনাে অসুস্থতা বা দুর্বলতা বােধ করলে বসে বসে আদায় করতেন । ( সুনানে আবু দাউদ )
তাহাজ্জুদ গুনাহ মিটিয়ে দেয় এবং মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে । হযরত আবু উমামা ( রা . ) হতে বর্ণিত , রাসূল : ইরশাদ করেন ; তােমরা কেয়ামুল লাইলের প্রতি যত্নবান হও । কেননা , তা তােমাদের পূর্ববর্তী সালেহীনের অভ্যাস এবং রবের নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম । আর তা পাপরাশী মােচন কারী এবং গােনাহ থেকে বাধা প্রদান কারী । ( জামে তিরমিযি ) ।