চেয়ারে বসে নামাজ নামাজ পড়লে নামাজ কি শুদ্ধ হবে? (পর্ব-০১)

 

 


 নামাজ ইসলামী শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ । ঈমানের পরেই নামাজের মর্যাদা । মুমিন ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টিকারী হলাে এ নামাজ । মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির উপর ইবাদতের বিধান আরােপ করেছেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য , কে তার অনুগত আর কে তার অনুগত নয় । শরয়ী ইবাদতসমূহ তিন পদ্ধতিতে আদায় করতে হয় । কিছু ইবাদত শারিরীক পরিশ্রমের মাধ্যমে পালন করতে হয় । যেমন- নামাজ , রোজা , কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি । আর কিছু ইবাদত নিছক অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে যেমন- যাকাত , সদাকাতুল । ফিতর , নফল সদকা ইত্যাদি । আর কিছু ইবাদাত শারিরীক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে । যেমন- হজ্ব , ওঁমরা ইত্যাদি । এ সকল ইবাদতের মধ্যে নামাজই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ । নামাজের জন্য অতিরিক্ত কিছু শর্ত- শারায়েত রয়েছে , যা অন্য কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নাই । যেমন- তহারাত হাছিল করা , কিবলামুখী হওয়া ইত্যাদি । নামাজকে মুমিনের মিরাজ বলা হয়েছে । বিজ্ঞজনরা নামাজকে সর্বোত্তম ইবাদতের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ ব্যায়মও বলেছেন । বিচার দিবসে ব্যক্তির যাবতীয় আমলের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযােগ্যতা নির্ভর করবে এ নামাজের মাধ্যমেই ।

নামাজের হিসাব ঠিক হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করবে দুনিয়ার জীবনে সঠিক পন্থায় নামাজ পড়া বা না পড়ার উপর । নামাজকে সঠিক করতে হলে শরীয়তের বাতানাে পন্থায়ই তা আদায় করতে হবে । নিজের খেয়াল - খুশিমত পড়লে বা আদায় করলে চলবে না । আল্লাহর নিকট তা গ্রহণযােগ্যও হবে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন ,
  فويل للمصلين ( 4 ) الذين هم عن صلاتهم ساهون ( 5 ) الذين لهم يراءون
অনুবাদ : - সুতরাং পরিতাপ সে নামাজীদের জন্য , যারা তাদের নামাজে অমনােযােগী । এবং যারা মানুষদের দেখানাের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করে । ( সুরা মাউন , আয়াত নং ৪ ও ৫ )

বিশুদ্ধ নামাজের জন্য প্রয়ােজন নামাজের শর্ত রােকন ওয়াজীব , সুন্নাত , মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়া । নামাজের শর্তাবলীর অন্যতম হলাে , তহারাত অর্জন করা । তহারাত বলতে শরীর , কাপড় ও নামাজের নির্দিষ্ট জায়গা পাক হওয়া । সমাজে বহু মুসল্লি আছে , যার নামাজের ব্যাপারে খুবই উদাসীন । বহু মুসল্লি আছে , যারা সামান্য ওজরে বসে বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে থাকেন । কী ওজরে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া শরীয়ত অনুমােদন দেয় তাও জানে না । কিছু মুসল্লি আছে , যাদেরকে দেখা যায় সামান্য ওজর আপত্তি নিয়েই দুনিয়ার যাবতীয় কাজ করে বেড়ায় , যে কাজগুলাে করতে তাকে কোমর বাকা করতে হয় , উঠতে - বসতে হয় । তাতে তেমন কোন সমস্যাও হচ্ছে না কিন্তু এ ধরণের লােক মসজিদে আসলেই একটি চেয়ার পেতে বসে বসে নামাজ আদায় করে থাকে । বসে নামাজ পড়ার কারণে কিয়াম করতে পারে না আবার তাকে রুকু সিজদা করতে হয় ইশারায় । সরাসরি রুকু সিজদা করা আর ইশারায় রুকু সিজদা করা কি কখনাে এক হতে পারে ? না , তা কখনােই এক হতে পারে না । ইশারায় রুকু সিজদা করা , এটা ওজরের মাসআলা স্বাভাবিক অবস্থায় না । নিজে নিজে ওজর বানিয়ে নিলেই শরীয়তে তা গ্রহণযোগ্য হবে তা কিন্তু নয় । আপনি যেটাকে ওজর বলতেছেন , সেটাকে এক অভিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নিতে হবে তা শরয়ী ওড়ার কি না । ডাক্তার বললেই ওজর হয়না । ওজর নির্ণয়ের CA ডাক্তারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ আলেমেরও প্রয়োজন আছে । যাই হােক , আমরা আলােচনা কৱৰ চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী বিধান নিয়ে । প্রকৃত কথা হলাে , দাড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হলে , জমিনে বসে নামাজ পড়বে লস , অ ' হলে তা শুনে নামাজ আদায় করবে এরকম বিবরণই নবি করিম 60 ° এর হাদিস শরীফ ও ফিকার কিতাবগুলােতে পাওয়া যায় । দাড়াতে অক্ষম হলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার বিধান হাদিস শরীফ ও ফিকার কিতাবগুলােতে পাওয়া যায় না অথচ চেয়ারের প্রথা নবি করিম সাঃ এর জামানাতেওঁ ছিল ।
যাই হােক , যেহেতু বর্তমান সময়ে ওজরওয়ালা মুসুল্লিগণ চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে থাকেন । তাই বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এটাকে সরাসরি নাজায়েয না বলে বরং এর কতিপয় বৈধ সুরত বর্ণনা করে থাকেন । তাই আমরাও তাদের গবেষণা থেকে এ বিষয়ে কতিপয় মাসয়ালা আলােচনার ইচ্ছা পােষণ করতেছি ।
* কোন ধরণের ওজর থাকলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ যদি কোন ব্যক্তি ফরজ নামাজে কিয়াম করতে অক্ষম হয় , তবে রুকু সিজদা করতে পারে , তাহলে সে জমিন বা খাট ইত্যাদিতে বসে নামাজ আদায় করবে । এ অবস্থায় উক্ত মাজুর ব্যক্তির মাথা ঝুকিয়ে রুকু করা এবং জমিন বা খাট ইত্যাদিতে মাথা রেখে সিজদা করা জরুরী । শুধু ইশারায় রুকু,সিজদা করা জায়েজ নাই এবং এর দ্বারা নামাজ হবে না । তবে যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে যমিনে মাথা রেখে সিজদা করতে সক্ষম না হয় অথবা সিজদা করতে সীমাহীন কষ্ট হয় , তাহলে শুধু ইশারায় রুকু সিজদা করবে । আর যে ব্যক্তি দাড়াতে সক্ষম তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রুকু সিজদা করতে সক্ষম নয় , তাহলে সে দাড়িয়ে ইশারায় রুকু সিজদা করবে । এ ক্ষেত্রে বসে ইশারা করা আবশ্যক নয় । যেহেতু তার জন্য দাড়িয়ে ইশারা করা বৈধ , তাই তার জন্য চেয়ারে বসে ইশারা করেও নামাজ আদায় করা বৈধ । তবে রুকু সিজদা করতে সক্ষম অবস্থায় চেয়ারে বসে নামাজ পড়া তার জন্য । জনেভা হবে না । উপরােক্ত যে অবস্থায় চেয়ারে বসে নামাক্কা পড়ার অবকাশ আছে , সে অবস্থায় যদি জমিনে নামাজ পড়তে পারে , তাহলে তার জমিনে বসেই নামাজ পড়া উচিত ।

ফতহুল কাদীর কিতাবে আছে

জلو أومأ قائما جاز ، إلا أن الإيماء قاعدا أفضل ؛ لأ, أقرب إلى الشجود
* অনুবাদ ; যদি দাড়িয়ে ইশারা করে , তাহলে তা জায়েজ আছে । তবে বসে ইশারা করা । উএম । কেননা তা সিজদার অধিক নিকটবর্তী । ( ফতহুল কাদীর , ১ / ৪৬০ পৃঃ )

* হেদায়া কিতাবের ( ১ / ৭৭ ) পূঃ এসেছে ,
জوإن قدر على القيام ولم يقدر على الركوع والسجود لم يلزمه إيماء ...... .... والأفضل هو قا عدا القيام ويصلي يومئ الإيماء قاعدا لأنه أشبه بالسجود .
* ফতােয়ায়ে আলমগীরী , কিতাবে
জوكذا لو عجز عن الركوع والسجود وقدر على القيام فالمستحب أن يصلي قاعدا بإيماء وإن صلى قائما بإيماء جاز عندنا ، هكذا في فتاوى قاضي خان

*  সুতরাং যখন ইশারায় নামাজ আদায়কারীর জন্য । জমিনে বসেই নামাজ পড়া আবশ্যক নয় বরং দাড়িয়ে ইশারায় নামাজ পড়াও জায়েজ , তাই চেয়ারে বসে ইশারায় নামাজ পড়াও জায়েজ হবে । তবে চেয়ারের মােকাবেলায় জমিনে বসে নামাজ পড়া উত্তম । কেননা জমিনে বসা ব্যক্তি চেয়ারে বসা ব্যক্তির চেয়ে জমিনের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে । * নামাজে কিয়াম ফরজ হওয়ার বিষয়টি কখন রহিত হবে ? যদি দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে দাড়াতে না পারে কিংবা পারলেও তাতে মারাত্মক কষ্ট হয় বা অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে , চাই এই আশংকা নিজ অভিজ্ঞতা বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হােক অথবা কোন নির্ভরযােগ্য দীনি ডাক্তার বলার কারণে হােক  অথবা দাড়ালে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ভয় হয়,তাহলে এসকল অবস্থায় কিয়াম অর্থাৎ দাঁড়ানোর ফরজ হওয়ার বিষয়টি রহিত হয়ে যাবে