সালাতুল ইস্তেখারা কোন কাজটি করবেন সিদ্বান্ত নিতে পারছেন না? তাহলে এই নামাজটি আপনার জন্যে

 


ছালাতুল ইস্তেখারা

মানুষ বিভিন্ন সময় একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটিকে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কারণ, কোথায় তার কল্যাণ নিহীত আছে সে ব্যাপারে কারো জ্ঞান নাই। তাই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে কল্যান লাভের জন্য আসমান জমীনের সৃষ্টিকর্তার নিকট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইস্তেখারা করতে হয় বা সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়,যেন তিনি তার সিদ্ধান্তকে এমন জিনিসের উপর স্থীর করে দেন যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী জন্য উপকারী হয়।


বিয়ে, চাকুরী, ব্যবসা,সফরসহ ইত্যাদি বৈধ বিষয়ে ইস্তেখারা করা হয় বা করা উত্তম।

হযরত জারীর বিন আবদুল্লাহ ( রা ) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন , হযরত রাসূল পাক ( সা . ) আমাদেরকে যে রূপ যত্নের সাথে পবিত্র কুরআন শিক্ষা দিতেন তদ্রূপ প্রত্যেক ব্যাপার ও কাজের পূর্বে এস্তেখারা নামায পড়ার জন্য উহার রীতি নীতি আমাদেরকে শিক্ষা দিতেন । ( বুখারী , নাসায়ী , ও তিরমিজী প্রভৃতি ) মারাকিল ফালাহ কিতাবে আছে , এস্তেখারা নামায সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ । যখন কোন কাজের শুভাশুভ বা ভাল মন্দ উভয় দিকের মধ্যে হতে কোন দিক সম্পর্কে মনের দৃঢ়তা ও নিশ্চয়তা সৃষ্টি হয় না , তখনই এস্তেখারা নামাযের উপযুক্ত সময় । আল্লাহ পাক এস্তেখারা নামাযের বদৌলতে কাজের অশুভ অবস্থার পরিবর্তে শুভাবস্থার সৃষ্টি করে দিবেন । তবে নিশ্চিত নেক কাজের পূর্বেও এস্তেখারার নামায পড়া যায় , যাতে করে কাজের সময় নির্ধারণে শুভাবস্থা লাভের তৌফিক হয় । মোট কথা এই যে , কাজের পরিণাম বা ফল নিশ্চিত রূপে শুভ হোক বা শুভ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা হোক , উভয় অবস্থায় এস্তেখারা নামাযের সুন্নাত তরীকা আমল করলে এ কাজে অভাবিত শুভ পরিণতির আশা করা যায় । এস্তেখারার অর্থ হলো মহান আল্লাহর নিকট কাজের শুভাবস্থা তলব করা । হাদীস শরীফে আছে , এস্তেখারার নিয়তে দু রাকায়াত নামায আদায় করত নিন্মোক্ত দোয়াখানি পাঠ করতে হবে ।

اللهم اني استخيرك بعلمك واستقدرك بقدرتك واسئلك من فضلك العظيم فانك تقدرو لا اقدروتعلم ولا اعلم وانت علام الغيوب اللهم ان كنت تعلم ان هذا الامر خير لي في ديني ومعاشي وعاقبة امرى او قال عاجل امری واجله فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه وان كنت تعلم ان هذا الامر شرلي في ديني ومعاشي وعاقبة امرى ( اوقال - عاجل امری واجله ) فاصرفه عني واصرفني عنه واقدرلی الخير حيث كان ثم رضني به .

উল্লিখিত দোয়ায় ان هذا الامر পাঠের সময় নিজের মকসুদের দিকে খেয়াল করবে ।

আরেকটি নিয়ম

মাওলানা শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী ( রহ . ) আল কওলুল জামিল কিতাবে লিখেছেন , কোন কাজের ভাল মন্দ উপলব্ধি করার জন্য অজু করতঃ পাক কাপড় পরিধান করে ডান কাতে শয়ন করবে এবং সূরা ওয়াশশামস সাতবার এবং সুরা এখলাছ সাতবার এবং ওয়াল্লায়ল সাতবার পাঠ করবে । অন্য রেওয়াতে আছে . সূরা এখলাছের পরিবর্তে সূরা ওয়াত্তিন সাতবার পাঠ করবে । অতঃপর বলবে “ হে আল্লাহ ! আমার খাবের মধ্যে এমন কিছু দেখিয়ে দাও , যদ্বারা আমি আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পারি । এ রূপ আমল ১ দিন ২ দিন কি ৩ দিন করবে । যদি কিছু বুঝতে না পারা যায় তাহলে সাত দিন পর্যন্ত করবে । ইনশা আল্লাহ এর মধ্যেই ভাল মন্দ বুঝতে পারবে মাশায়েখে কেরামের কেহ কেহ বলেছেন , উক্ত দোয়া পাঠ করতঃ পবিত্রাবস্থায় শুয়ে পড়বে । খাবে যদি সাদা বা সবুজ রং দেখা যায় তাহলে কাজ ভাল বলে মনে করবে । কিন্তু খাবে যদি কালো বা লাল রং দেখা যায় তাহলে কাজ খারাপ মনে করবে । এ ছাড়াও ছালাতুল ইসতিসকা , ছালাতুল কুসূফ ( সূর্য গ্রহণ ) ও চন্দ্র গ্রহণের নামায সুন্নতে যায়েদাহ বা নফল হিসেবে হাদীস শরীফে প্রমাণ রয়েছে । M মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা বাকারার ১৫৮ নং আয়াতে বলেন

ومن تطوع خيرا فان الله شاكر عليم

অর্থাৎ যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোন নেকীর অধিকারী হবে মহান আল্লাহ অবশ্যই তার নেকীর ছওয়াব তাকে বখশিশ করবেন । তিনি সব বিষয়ে পূর্ণ অবগত আছেন । মুফাসসিরে কেরামদের ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত আয়াত দ্বারা নফল বা অতিরিক্ত ইবাদতকে বুঝানো হয়েছে । 

ইস্তেখারার নামাজ ও দোয়া ও ইস্তেখারা করার নিয়ম

ইস্তেখারার নামাজ ও দোয়া

কোন কাজের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ কাজটি তার জন্য কল্যাণকর কি না সে বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়াকেই ইস্তেখারা বলা হয় ।


মানুষ বিভিন্ন সময় একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনটিকে গ্রহণ করবে সে ব্যাপারে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। কারণ, কোথায় তার কল্যাণ নিহীত আছে সে ব্যাপারে কারো জ্ঞান নাই। তাই সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে কল্যান লাভের জন্য আসমান জমীনের সৃষ্টিকর্তার নিকট সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ইস্তেখারা করতে হয় বা সাহায্য প্রার্থনা করতে হয়,যেন তিনি তার সিদ্ধান্তকে এমন জিনিসের উপর স্থীর করে দেন যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী জন্য উপকারী হয়।


বিয়ে, চাকুরী, ব্যবসা,সফরসহ ইত্যাদি বৈধ বিষয়ে ইস্তেখারা করা হয় বা করা উত্তম।


ইস্তিখারা করার নিয়ম:

১) ওযু করতে হবে।

২) ২ রাকায়াত নফল নামায পড়তে হবে।

৩) নামাযের সালাম ফিরিয়ে আল্লাহ তায়ালার বড়ত্ব ও মর্যাদার কথা মনে জাগ্রত করে একান্ত বিনয় ও নম্রতা সহকারে আল্লাহর প্রশংসা ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দরূদ পেশ করার পর ইস্তেখারার দুয়াটি পাঠ করতে হবে:



সালাতুল ইস্তেখারা নামাজ পড়ার নিয়ম ।


যেমনভাবে যোহর, মাগরিব ও এশার নামাজের পর শেষে দুই রাকাত নফল পড়া হয় সেই নিয়মে পড়লেই যথেষ্ট হবে । তবে ইস্তেখারার উদ্দেশ্য থাকতে হবে ‌।


ইস্তেখারার উদ্দেশ্যে নফল নামাজ আদায় করার কথা ভাবলেই নিয়ত হয়ে যাবে । তারপর প্রথম রাকাতে সুরা ফাতেহার পর, যেকোনো একটি সূরা পড়তে হবে আর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর যেকোনো অন্য আরেকটি সূরা পড়তে হবে ।

এছাড়া আরেকটি নিয়মে নামাজ আদায় করতে পারেন,প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ৩ বার করে সূরা ইখলাসও পড়তে পারেন । যে নিয়ম আপনার জন্য সহজ মনে হয় সেই নিয়মই আপনি নফল নামাজ আদায় করতে পারবেন কোন সমস্যা নেই ।


কেউ যদি আরবীতে বা বাংলাতে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করতে চান, তাহলে করতে পারেন ।


نويت ان اصلي لله تعالى ركعتى صلواة الاستخارة نفل متوجها إلى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

বাংলায় উচ্চারণ:- নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকয়াতাই সালাতিল ইস্তেখারাতি নাফলা, মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।


অর্থ/বাংলায় নিয়াত:-

“আমি দুই রাকাত ইস্তেখারা নফল নামাজের নিয়াত করছি আল্লাহ তা’আলার জন্য, মুখ আমার কা’বা শরিফের দিকে আল্লাহু আকবার” ।


পরিশেষে হে আল্লাহ ! আপনি সকলকে হিদায়াতের উচ্চ মাকাম নছিব করুন ও বেশী বেশী নফল ইবাদতে আত্মত্ম নিয়োগ করার তৈফিক দান করুন আমীন।