তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম,ফজিলত ও সময় আলোচনা

 


তাহাজ্জুদের নামায

তাহাজ্জুদ শব্দের অর্থ চক্ষু থেকে ঘুমকে দূরে সরিয়ে ফেলা , জেগে থাকা । কুরআনের ঘোষণা ومن الليل فتهجد به نافلة لك আর রাতের কিছু অংশের মধ্যে তাহাজ্জুদ কায়েম করুন এখানে তাহাজ্জুদ বলতে তাহাজ্জুদের নামাযকে বুঝানো হয়েছে যা ঘুম থেকে জেগে উঠার পরে আদায় করা হয় । এ কারণে রাতের প্রহরে জেগে উঠে ইবাদতকারীকে তাহাজ্জুদগুজার বলে । তাফসীরে কুরতুবী খঃ ৩ , পৃঃ ৩০৮ , কাশশাফ অন্যান্য কিতাব দ্রষ্টব্য।


U  عن عائشة ( رض ) قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث على فريضة وهي سنة لكم الوتر والسواك وقيام الليل او تطوعا لزيادة الدرجات بخلاف تطوع الامة فانه لتكفير الذنوب وتدارك الخلل الواقع في فرائضهم كما قال قتادة ومجاهد ان الوجوب قد نسخ في حقه عليه السلام كما نسخ في حق الامة فصارت الامور المذكورة نافلة لان الله تعالى قال نافلة لك .

 অর্থাৎ হযরত মা আয়েশা ( রা . ) বর্ণনা করেন , নবী ( সা . ) বলেছেন , তিনটি ইবাদত আমার উপর ফরজ কিন্তু তোমাদের উপরে সুন্নত । যথা- বিতর নামায পড়া , মিসওয়াক করা এবং তাহাজ্জুদের নামায পড়া । আর নফল নামায পড়া তো মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য , বিশেষ করে এই নফল নামায বা ইবাদতের কারণে উম্মতে মুহাম্মাদী ( সা . ) এর গুনাহসমূহ মাফ হয়ে ফরজ ইবাদতসমূহের ত্রুটিসমূহের পরিপূরক হয় ।

হযরত কাতাদা ( রা . ) এবং মুজাহিদ ( রহ . ) বলেছেন , উম্মতের ন্যায় নবী করীম ( সা . ) এর উপরেও এই তাহাজ্জুদের ইবাদতটির ফরজিয়াত রহিত করে দেয়া হয় । বর্তমানে তাহাজ্জুদ নামাযটি নফলের পর্যায় ভূক্ত । এ কারণে আল্লাহ বলেছেন , এ আমলটি তোমাদের জন্য নাফিলা অর্থাৎ অতিরিক্ত । এই নামাযটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ যে , নবী ( সা . ) কখনই তরক করেননি । যদি কোন কারণে এই নামাযটি ছুটে যেত তাহলে তিনি পরবর্তী রাতে ১২ রাকাআত নামায কাযা করে নিতেন ( মালা বুদ্দা মিনহু ) গাইয়াতুল আওতার এবং ফাতাওয়ায়ে শামী কিতাবে তাহাজ্জুদ নামাযকে সুন্নত বলে উল্লেখ করা হয়েছে । যে ব্যক্তি নিজে তাহাজ্জুদ নামায পড়তে উঠে এবং নিজ পরিবারকে উঠায় মহান আল্লাহ তার প্রতি রহমত নাযিল করেন । অতএব স্বামী স্ত্রীকে উঠাবে এবং স্ত্রী প্রথম জাগ্রত হলে স্বামীকে উঠাবে । এমনকি পরিবারের কেউ যদি উঠতে না চায় তাহলে তাঁর চোখে মুখে পানির ছিটা দিতে হবে ।

 সহীহ বুখারী , মুসলিম , ইবনে মাজাহ , নাসাঈ , সহীহ ইবনে হিব্বান , মুসতাদরাকে হাকেম প্রভৃতি কিতাবে এসেছে তাহাজ্জুদ আদায়কারীদের জন্য মহান আল্লাহ বেহেশতে এমন এক স্বচ্ছ সুন্দর ও মনোরম বাড়ি তৈরি করে রেখেছেন যার মধ্য দিয়ে ভেতর এবং বাহির দেখা যায় । ( অজীফায়ে ছালেহীন -১৭৯ )

তাহাজ্জুদ নামাযের সময় 

হাদীস শরীফে এসেছে , রাতের দুই তৃতীয়াংশ অতীত হবার পর মহান আল্লাহ প্রথম আকাশে এসে বলতে থাকেন , হে আমার বান্দারা ! তোমরা এ সময় দুয়া করো আমি তোমাদের দুয়া কবুল করে নিব । যে কোন বস্তুর জন্য প্রার্থনা কর আমি তা পূরণ করবো । আর আমার নিকট গুনাহ মাফের প্রার্থনা করলে আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।

“ তাহাজ্জুদ নামাযের ওয়াক্ত মধ্য রাত থেকে শুরু হয় । মনে রাখা প্রয়োজন যে , তাহাজ্জুদ শব্দটির অর্থ হলো ঘুম থেকে জেগে উঠা বা চোখ থেকে ঘুমকে সরিয়ে ফেলা বিধায় একটি ঘুমের পরে এ নামাজটির ওয়াক্ত শুরু হয় । কারো কারো মতে , রাতে দুই তৃতীয়াংশ থেকে এর ওয়াক্ত শুরু হয় যেমনটি পূর্ববর্তী হাদিসে উল্লেখ রয়েছে ।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম 

তাহাজ্জুদ নামাজ কমপক্ষে ২ রাকাত এবং উর্ধ্বে ৮ রাকাত । প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে যে কোন সূরা বা আয়াত পড়া যায় । সর্ব সাধারণের জন্য সূরা ফাতিহার পর ৩/৫/৭ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম ।