চাশতের নামাজ পড়ার নিয়ম, কখন পড়বেন ও ফজিলত

 





চাশতের নামায

চাশত ফারসী শব্দ । অর্থ মধ্য দিন বা দ্বিপ্রহরের পূর্বক্ষণ । শরীয়তের পরিভাষায় এই সময়টিকে والضحى ( আদ দোহা ) বলে । এর অর্থ মধ্য দিন পবিত্র কুরআনে এ নামে ১ টা সূরাও নাযিল হয়েছে ।  والضحى والليل اذا سجى .

কসম পূর্বাহ্নের , আর কসম রাতের যখন তা নিঝুম নিস্তব্ধ হয় ( সূরা দুহা আয়াত - ১-২ )

চাশতের নামাযের সময়

আনুমানিক বেলা ১০ টার পর হতে দ্বিপ্রহরের পূর্বক্ষণ পর্যন্ত সময়ের ভেতরে ২ রাকাত থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত নামায আদায় করা যায় ।

চাশতের নামজের রাকাত সংখ্যা ,পড়ার নিয়ম ও ফজিলত :
 عن على رضي قال كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي الضحى .

অর্থাৎ চাশতের নামাযটি নবী (সাঃ) সর্বদা আমল করতেন ।

 عن ابي سلمة رضي قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يحافظ على صلاة الضحى الا اواب

নবী (সাঃ) বলেন নেককার , নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি ব্যতীত কেউ সালাতুদ্দুহার সংরক্ষণ করবে না ।

 عن ذاذان ابي عمر عن رجل من الانصار قال رایت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلى الضحى ذات يوم فلما فرغ قال اللهم اغفرلي وتب على انك انت التواب الغفور حتى قالها مئة مرة أو أكثر من مئة مرة .

হযরত আবু ওমর যাযান (রাঃ) আনসারী এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন , তিনি বলেন , আমি নবী করীম (সাঃ) কে একদিন সালাতু দ্দোহা পড়তে দেখলাম । তিনি যখন নামায সমাপ্ত করলেন তখন তিনি এই দু আ'টি পাঠ করলেন । 

اللهم اغفرلي وتب على انك انت التواب الغفور ,

অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিন । আমার তওবা কবুল করেন । নিশ্চয়ই আপনি অধিক পরিমাণে তওবা গ্রহণকারী , অতিশয় ক্ষমাকারী । তিনি উক্ত দু'আটি ১০০ অথবা তার চেয়ে বেশীবার পাঠ করলেন । ( নাসায়ী )

عن عبد الله بن عمرو أنه ، قال لأبي ذر : يا عم اقبسنی خیرا ، قال : نعم يابن أخي ، قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم : يا أبا ذر ، إنك إذا صليت الضحى ركعتين لم تكتب من الغافلين ، وإن صليت أربعا كتبت من المحسنين ، وإن صليتها سنا لم يتبعك ذنب ، وإن صليتها عشرا ... وإن صليتها ثنتي عشرة بنى لك بها بيتا في الجنة .

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত , তিনি হযরত আবু যর (রাঃ) কে বললেন , হে ভাই ! আপনি আমার জন্য কল্যাণের কিছু বলুন । তখন তিনি আমাকে বললেন , হ্যাঁ হে ভাইপো ' আমাকে রাসূল (সাঃ) বলেছেন , হে আবু যর তুমি যখন ২ রাকাত সালাতুদ্দুহা আদায় করবে তখন তোমাকে গাফেলদের অন্তর্ভূক্ত করা হবে না । আর যদি তুমি ৪ রাকাত পড় তাহলে তোমাকে মুহুসিনিন বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত করে নেওয়া হবে । আর যদি তুমি ৬ রাকাত পড় তাহলে কোন গুনাহ তোমার পিছু নিতে পারবে না । আর যদি ১০ রাকাত পড় তাহলে তুমি তো অনেক দুর এগিয়ে গেলে , আর যদি তুমি ১২ রাকাত নাময পড় অহলে তোমার এই আমলের কারণে তোমার জন্য জান্নাতে বাড়ি বানানো হবে । ( মুনিয়া , মারাকিল ফালাহ , তাবরানী শরীফ )

অতএব , ঝামেলা মুক্ত মুমিন বান্দাদের জন্য ইশরাক নামাযের পর আরো কিছু সময় জিকির ফিকিরে অতিবাহীত করে চাশতের নামায আদায় করতঃ দোয়া ও মোনাজাতান্তে প্রয়োজনীয় কাজে আত্মনিয়োগ করা অতি উত্তম পন্থা । ( বাহরে শরীয়ত- ৪ / ১২১ পৃষ্ঠা )