তাহিয়্যাতুল অজু বা দুখুলুল মসজিদ নামাজ পড়ার নিয়ম, নিয়য় ও ফজিলত আলোচনা করা হলো





তাহিয়্যাতুল অজু:

অজু করার পর অজুর পানি শুকানোর পূর্বে দু রাকা’আত বা চার রাকা’আত নামাযকে তাহিয়্যাতুল অজু বলা হয়। এটি পড়া মুস্তাহাব।

হযরত আবু কাতাদা (রাজিঃ) থেকে বার্ণিত আছে, নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্য থেকে যখন কোন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করবে তখন বসবার পূর্বেই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া উচিত। (বুখারী শরীফ, ১ম খ-, ৬৩ পৃষ্ঠা)

তাহিয়্যাতুল মসজিদ' -এর ফযীলতঃ

তাহিয়্যাতুল ওজুর নামাজ ওজু করার পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া এ সম্পর্কে হযরত ওকবা ইবনে আমের জুহানী (রাজি.) থেকে বর্ণিত আছে নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওজু করার পর একাগ্রতা ও আল্লাহর দিকে মনকে ধাবিত করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে, আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাত ওয়াজীব করে দেবেন। (নাসায়ী শরীফ, ১ম খ-, ৩৬ পৃষ্ঠা)।

ওযুর পর দুই রাকআত নামাজ পড়লে পেছনের সব গুনাহ মাফ (সহীহ আবূ দাউদ, হাদীস নং ৫৬১) 

ওযুর পর দুই রাকআত নামাজ পড়লে পেছনের সকল গুনাহ মাফ (সহীহ আবূ দাউদ, হাদীস নং ৯০৫)

তাহিয়্যাতুল ওযু'র নামাজ পড়ে যে দোয়া করবে তা কবুল হবেঃ ( মুসনাদে আহমদ -৬:৪৪৩পৃ.) 

তাহিয়্যাতুল ওযু'র বরকতে বেলাল রাযি. জান্নাতে গেলেনঃ ( সহীহ বুখারী ও মুসলিম, বু. হাদিস নং ১১৪৯)

তাহিয়্যাতুল ওযু' নামাজ দ্বারা সদ্য ভূমিষ্ঠের ন্যায় পবিত্র হয়ে যায়ঃ (মুসতাদরাকে হাকেম, যাহারী -২ :৩৯৯ পৃ.)

হযরত যায়েদ ইবনে খালিদ জুহানী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরুপে ওযু করে, অতঃপর দুই রাকাআত নামাজ এমনভাবে আদায় করে যে, নামাজের মধ্যে কোন ভূল করে না। অর্থাৎ খুশু -খুজুর সাথে নামাজ আদায় করে, তাহলে তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সহীহ আবূ দাউদ, হাদীস নং ৯০৫)

এই নামাজের সময়নামাজের নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যে কোনো সময় ওজু করার পর এ নামাজ পড়া যায়। অর্থাৎ তিন সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ।

(১) সূর্য উদয়ের সময়,

(২) ঠিক দুপুরে,

(৩) সূর্য ডুবার সময়। (তিরমিযী শরীফ, ২য় খ-, ৩৪১ পৃষ্ঠা)


তাহিয়্যাতুল অজুর নামাজ পড়ার নিয়মঃ

সাধারণ সুন্নাত ও নফল নামাজের ন্যায় যেকোন সূরা-কিরাত দ্বারা ' তাহিয়্যাতুল ওযু' আদায় করা যায়। উভয় রাকাআতেই সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলাতে হবে এবং আখেরী বৈঠক আত্তাহিয়্যাতু, দরুদ শরীফ ও দোয়ায়ে মাছূরা সব পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

তাহিয়্যাতুল অজু নামাযের নিয়ত:

K نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ لِلّٰهِ تَعَالٰى رَكْعَتَىْ صَلٰوةِ تَحْيَةُ الْوَضُوْءِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللّٰهِ تَعَالٰى مُتَوَ جِّهًا اِلٰى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِ يْفَةِ : اَللّٰهُ اَكْبَرُ

অর্থ: আমি আল্লাহর ওয়াস্তে কিবলামুখী হয়ে দুই রাক’আত তাহিয়্যাতুল অজু সুন্নাত নামায আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।

তাই আমারা চেস্টা করবো এই নামাজটি বেশি বেশি আদায় করার জন্যে।