রোযা ফরজ হওয়ার বর্ননা,রোযার ফজীলত ও গুরুত্ব (পর্ব১)

 


فرضية الصيام

রোযা ফরজ হওয়ার বর্ণনাঃ

মাসআলা-১  রােযা ইসলামের মৌলিক ফরজগুলাের একটি।

عن ابن عمر رضى الله عنه ، قال : قال رسول ﷺ  بني الاسلام على خمس: شهادة آن لا إله إلا الله وان محدا عبده ورسوله واقام الصلاة وايتاء الزكاة والحج وصوم رمضان .متفق عليه

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,

ইসলাম পাচটি ভিত্তির উপর স্থাপিত:

 ১. এই সাক্ষ্য দেয়া যে আল্লাহ ছাড়া আর কোনাে মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, 

২. নামাজ কায়েম করা,

৩. যাকাত দেয়া, ৪. হজ্জ করা এবং 

৫. রমযানের রোযা রাখা । (বুখারী ও মুসলিম)

عن ابي هريرة رضى الله عنه. آن اعرابيآتي النبي ﷺ  فقال دلني على عمل اذا عملت دخلت  الجنة قال : تعبدالله ولا تشرك به شيئا وتقيم الصلاة المكتوبة وتودي الزكاة المفروضة وتصوم رمضان قال فوالذي نفس بيده لا ازيد على هذا فلما ولا قل النبى ﷺ  من سرة ان ينظر الى رجل من اهل الجنة فلىينظر الى هذا . 

رواه البخاري

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা এক বেদুঈন নবী (সঃ) -এর কাছে এসে বলল, “আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন যা করলে আমি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারি। নবী (সঃ) বললেন : “আল্লাহর ইবাদত কর,তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করিও না, ফরজ নামাজ কায়েম কর, ফরজ যাকাত অদায় কর এবং রমযান মাসের রােযা রাখ। লোকটি বলল : “আল্লাহর শপথ! আমি এর চেয়ে বেশি কিছু করব না।” যখন লােকটি ফিরে গেল তখন রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, “বেহেশতী লােক দেখা যার ইচ্ছা সে যেন এ ব্যক্তিকে দেখে। (সহীহ আল বুখারী)

فضل الصوم

রােযার ফযীলতঃ

মাসালা-২; রমযানুল মােবারক শুরু হওয়ার সাথে সাথে বেহেশতের দ্বার খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দ্বার বন্ধ করে দেয়া হয়।

عن أبي هريرة رضى الله النبي  ، قال : قال النبي   - إذا دخل رمضان  فتحت ابواب الجنة وغلقت أبواب جهنم وسلسلت الشياطين متفق عليه

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : “যখন রমযান মাস আসে বেহেশতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় । জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানকে শিকলে বন্দী করা হয়।” (বুখারী ও মুসলিম)

মাসআলা-৩; রমযান মাসে ওমরা করার সাওয়াব হজ্জের সমান ।

عن عطاء رضى الله عنه قال سمعت ابن عباس رضى الله عنه يحدثنا قال قال رسول اللهﷺ لامراة من الأنصار سماها ابن عباسی رضى الله عنه مافنسيت اسمها ما منعك ان تحجي معنا قالت لم يكن لنا الا نضحان فحج ابو ولدها وابنها على نضح وترك لنا ناضحا ننضح عليه قال فاذا جاء رمضان فاعتمري فان عمرة فيه تعدل حجة.

رواه المسليم

আতা (রাঃ) হতে বণিত, তিনি বলেন- আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : “রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক আনসারী মহিলাকে বললেন, “আমাদের সাথে হজ্জ করতে তােমাকে কিসে বাধা দিল? মহিলা বলল, আমাদের পানি বহনকারী মাত্র দুটি উট ছিল। আমার ছেলের বাপ ও তাঁর ছেলে এর একটিতে চড়ে হজ্জ করেন এবং অপরটি আমাদের জন্য পানি বহনের উদ্দেশ্যে রেখে যান ।রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও বললেন, “রমযান মাস আসলে তুমি ওমরা কর, কারণ এ মাসের ওমরা একটা হজ্জের সমান ।" (মুসলিম)

মাসআলা -৪ :  রােযা কিয়ামতের দিন রোযাদারের জন্য সুপারিশ করবে ।
 عن عبدالله بن عمرو رضى الله عنه أن رسول الله ﷺ قال : الصيام والقزان يشفعان للعبد يوم القيامة   يقول الصيام آي رب منعته الطعام والشهوة فشفعني فيه ويقلو القزان منعته النوم 
باليلي فشفعني فيه قال فيشفعان . رواه أحمدوالطبراني. صحيح.
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “রােযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। 
রােযা বলবে :
“হে আমার প্রভু! আমি তাকে দিনে তার আহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি,
সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন” এবং কুরআন বলবে“আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা থেকে বাধা দিয়েছি, সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। উভয়ের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” (আহমদ, তাবরানী)

মাসআলা-৫:  রােযার প্রতিদান অগণিত।
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : كل عمل ابن ادم يضاعف الحسنة بعشر امثلها الى سبعمائة ضيف قال الله تعالى إلا الصوم فانه لي وأنا أجزي به يدع شهوته وطعامه من أجل للصيام فرحتان فرحة عند فطرة وفرحة   عند لقاء ربه ولخلوف فم الصائم اطيب عندالله من ريح المسك والصيام جنة فاذا كان يوم صوم احدكم فلا يرفث ولا يصخب فان سابه احد او قاتله فليقل اني امرؤصائم متفق عليه..

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “মানব সন্তানের প্রত্যেক নেক আমলের প্রতিদানকে দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত বাড়ানাে হয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, রােযা ব্যতীত । কেননা, রােযা আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিফল দান করব। । আমারই জন্য নিজ প্রবৃত্তি ও খানাপিনার
জিনিস ত্যাগ করে। রােযাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে। একটি তার ইফতারের সময় এবং অপরটি বেহেশতে নিজ প্রভুর সাক্ষাত লাভের সময় ।নিশ্চয় রােযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের খুশবু অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধময় । রােযা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ। সুতরাং যখন তােমাদের কারাে
রােযার দিন আসে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং অনর্থক শােরগােল না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে চায় সে যেন বলে : “আমি একজন রােযাদার।” (বুখারী ও মুসলিম)

মাসআলা-৬ :   রােযাদারের জন্য বেহেশতে ‘রায়্যান' নামে একটি বিশেষ দরজা বানানো হয়েছে।
عن سهل بن سعد رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : إن في الجنة ثمانية أبواب فيها باب يسمى الريان لايدخله الا الصائمون. متفق عليه ..

সাহাল ইবনে সা'আদ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন:
“বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এগুলাের একটির নাম 'রায়্যান'। এ দরজা দিয়ে শুধু রােযাদারই প্রবেশ করবেন।” 
(বুখারী ও মুসলিম)

মাসআলা-৭:  রমযানের পূর্ণ মাসে প্রত্যেক রাতে আল্লাহ তা'আলা লােকজনকে।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন ।
عن أبي هريرة رضى الله عنه عن رسول الله ﷺ قال : إذا كانت أول ليلة من رمضان.
صغدت الشياطين ومردة الجين. وغلقت أبواب النار. فلم يفتخ منها بات.وفتحت الأبواب الجنة. فلم يغلق منها باب، ونادی مناد: یا باغي الخير
اقبل. ويا باغي الشر أقصر . ولله عتقاء من النار.وذلك في كل ليلة. رواه ابن ماجه - (صحيح(

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, রমযান মাসের প্রথম রাত্র থেকেই শয়তান এবং দুষ্ট জ্বিনদেরকে বন্দী করে দেয়া হয়।জাহান্নামের সমস্ত দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। তার একটি দরজাও খােলা থাকে না। আর বেহেশতের সমস্ত দরজা খুলে দেয়া হয়, তার একটি দরজাও বন্ধ রাখা হয় না। আর এক ঘােষণাকারী ফেরেশতা ঘােষণা দিয়ে থাকেন, “হে পুণ্য তলবকারী! অগ্রসর হও, আর হে পাপ তলবকারী! পিছে হঠ। আর রমযানের
প্রত্যেক রাতে আল্লাহ তাআলা লােকদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দানকরেন।” 
(ইবনে মাজাহ)

মাসালা-৮ :  প্রত্যেক দিন ইফতারের সময়ও আল্লাহ তাআলা লােকজনকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
عن جابر رضى الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ  ان لله عند كل فطر عتقاء وذلك في كل ليلة. رواه ابن ماجه. صحيح۔
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : “আল্লাহ
তায়ালা প্রত্যেক দিন ইফতারের সময় লােকজনকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান
করেন।” (ইবনে মাজাহ)

মাসআলা-৯ :  রমযান মাসে সিয়াম ও কিয়ামুল্লাইল আদায়কারী কেয়ামতের দিন সিদ্দীক এবং শহীদগণের সাথে থাকবে ।
عن عمرو بن مرة الجهني رضى الله عنه قال: جاء رجل إلى النبي ﷺ فقال يارسول الله ﷺ  أرأيت إن شهدت أن لا إله إلا الله . وأنك رسول الله.وصليت الصلوات الخمس وأديت الزكاة،وصمت رمضان. وقمته فممن أنا؟ قال: من الصديقين والشهداء . رواه البزار وابن ماجه وابن حبان (صحيح۔
আমর ইবনে মুররাহ আল জুহানী (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী করীম এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! যদি আমি এ সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ ছাড়া কোনাে মাবুদ নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল, আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, যাকাত দেই এবং রমযানে রােযা রাখি ও তার রাত্রিতে তারাবীহ পড়ি, তাহলে আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব? রাসূল -বললেন, সিদ্দীক ও শহীদগণের অন্তর্ভুক্ত। (ইবনে হিব্বান)

اهمية الصوم
রোযার গুরুত্বঃ 

মাসআলা-১০ :  রমযান মােবারকের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি হতভাগ্য।
وعن أنس بن مالك رضى الله عنه قال: دخل رمضان فقال رسول الله ﷺ ان هذا
الشهر قد حضركم وفيه ليلة خير من ألف شهر من    هرمها فقد حرم الخير كله ولا يحرم خيرها الا كل محروم : رواه ابن ماجه. (حسن) -
আনাস ইবনে মালেক হ(রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রমযান যখন এলাে রাসূল (সঃ)
" বললেন; “এই মাস তােমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে এতে এমন একটি রাত্র আছে যা হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম । যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সে সর্বপ্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর চিরবঞ্চিত ও হতভাগ্য ব্যতীত অন্য কেউ এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয় না।” (ইবনে মাজাহ)

মাসআলা-১১ :  রমযান পেয়েও যে ব্যক্তি পাপ থেকে মুক্ত হয়ে কল্যাণ অর্জন করতে পারেনি তার জন্য ধ্বংস ।
عن کعب بن عجرة رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ  احضروا المنبر فاحضرنا فلما إرتقی درجۀ قال (امین) فلما ارتقى الدرجة الثانية قال (امين قلما ارتقى الدرجة الثالثة قال أمين فلما نزل قلنا يارسول الله ﷺ  لقد سمعنا منك اليوم شيئا ما كنا نسمعه قال إن جبريل عرض لي بعد من ادرك رمضان فلما يغفرله قلت (أمين) فلمارقيت الثانية قال بعد من ذكيرت عنده فلما يصل عليك فقلت امين) فلما رقيت الثالثة قال بعد من ادرك ابويه الكبر عنده أو أحدهما فلما يدخلاه الجنة قلت امين)، رواه الحاكم بسند صحيح ۔)

কাআব ইবনে উজরাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও সাহাবায়ে কেরামদেরকে বললেন, ‘মিম্বরের নিকট আসাে, আমরা মিম্বরের নিকট আসলাম।যখন নবী করীম(সঃ) প্রথম সিড়িতে চড়লেন বললেন, আমীন । অত:পর দ্বিতীয় সিঁড়িতে যখন চড়লেন, তখনও বললেন, আমীন । তারপর তৃতীয় সিড়িতে চড়ার পরও 'আমীন' বললেন । যখন রাসূল ও মিম্বর থেকে নিচে অবতরণ করলেন, আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমরা
আপনার কাছ থেকে এমন কথা শুনেছি যা এর পূর্বে কখনাে শুনিনি। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেন, “জিবরাঈল (আ) আমার কাছে এসে বলল, সে ব্যক্তি ধ্বংস হােক যে রমযান পেয়েও নিজের পাপ মােচন করতে পারেনি। আমি তাঁর উত্তরে বললাম আমীন । আমি যখন দ্বিতীয় সিড়িতে চড়লাম, তখন জিবরাঈল বলল, সে ব্যক্তি ধ্বংস হােক যার সামনে আপনার নাম উল্লেখ করা হয়, কিন্তু
সে আপনার প্রতি দরুদ পাঠ করল না । আমি তার উত্তরে বললাম, আমীন।তারপর আমি যখন তৃতীয় সিঁড়িতে চড়লাম, জিবরাঈল বলল, সে ব্যক্তি ধ্বংস হােক যে আপন পিতা-মাতা বা তাদের কোনাে একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েও তাদের খেদমত করে বেহেশত অর্জন করতে পারে নি। আমি এর উত্তরেও বললাম, আমীন । (হাকীম)

মাসআলা-১২ :  রােযা তরককারীদের শিক্ষণীয় পরিণতি।
عن أبي أمامة الباهلي رضى الله عنه ؛ قال سمعة رسول الله ﷺ يقول بينا أنا نائم أتاني رجلان فاخذا بضبعي فاتيابي جبل وعرا فقالا أصعد فقلت إني لا أطيقه فقالا انا سنسهله لك فصعدت حتي  إذا كنت في سواء الجبل إذا بأصوات شديدة قلت ما هذه الأصوات؟ قالوا هذا عواء اهل النار ثم انطلق بي فإذا أنا بقوم معلقين بعراقبيهم مشققة اشد اقهم تسيل أشد اقهم دما قال قلت من هؤلاء؟ قال الذين يفطرون قبل تحللة صومهم. رواه ابن خزيمة وابن حبان (صحيح)
আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি
বলেছেন, “আমি ন্দ্রিাবস্থায় ছিলাম আমার কাছে দুইজন লােক আসল, তারা আমার বাহু ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ের কাছে নিয়ে আসল এবং আমাকে বলল, এ পাহাড়ে চড়েন । আমি বললাম, আমি চড়তে পারব না। তারা বলল,আমরা আপনার জন্য সহজ করে দেব । অত:পর আমি পাহাড়ে চড়লাম এবং একেবারে চূড়ায় পৌছে গেলাম সেখানে আমি চিৎকারের শব্দ শুনলাম । আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এই চিৎকারের শব্দগুলাে কী? তারা বলল, এসব জাহান্নামবাসীদের চিৎকারের শব্দ । অতঃপর তারা আমাকে নিয়ে কিছু দূর সামনে অগ্রসর হলেন, তথায় আমি দেখলাম কতগুলাে লােকজনকে উল্টো দিকে লটকানাে
হয়েছে এবং তাদের মুখমণ্ডল চিরে দেয়া হয়েছে তা থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে ।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম এরা কারা? উত্তর দিলেন, এরা সে লােকজন যারা সময়ের
পূর্বে রোযার ইফতার করে ফেলত । 
(ইবনে খুযায়মা, ইবনে হিব্বান)

الصيام في ضوء القران
কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে রােযা

মাসআলা-১৩; রােযা ইসলামের পাঁচ ফরজের মধ্যে এক ফরজ ।

মাসআলা-১৪ : রােযা পূর্বের উম্মতের উপর ও ফরজ ছিল।

মাসাআলা-১৫ : রােযার উদ্দেশ্য হলাে গুনাহ থেকে বাঁচা এবং পুণ্যের উপর চলার শিক্ষা দেয়া।
يا ايها الذين أمنوا کتب عليکم الصيام كما كتب على الذين من قبليکم لعلکم تتقون
“হে ঈমানদারগণ! তােমাদের ওপর রােযা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লােকদের ওপর, যেন তােমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারাে।” (সূরা আল বাকারা : আয়াত-১৮৩)

মাসআলা-১৬ :  প্রত্যেক মুসলমান যে রমযান মাস পায় তার উপর পূর্ণ এক মাস রোযা পালন ফরজ।

মাসআলা-১৭ :  মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রােযা না রাখার অনুমতি আছে । কিন্তু রমযানের পরে ছেড়ে দেয়া রােগুলোর কাজা আদায় করতে হবে।

মাসআলা-১৮:  মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তিকে রােযা ছেড়ে দেয়ার জন্য কোনাে কাফফারা আদায় করতে হবে না ।

মাসালা-১৯ : রমযানের মাস আল্লাহ তাআলার বিশেষ ইবাদত ও প্রশংসাবাদের মাস।

شهر رمضان الذي انزل فيه القرأن هدى للناس وبينت من الهدی والفرقان فمن شهد منكم الشهر فليصمه ومن كان مريضا أو على سفر فعدة من أيام أخر يريد الله بكم اليسر ولا يريد بکم العسر وليتكملوا العدة ولتكبروا الله على ما هدیکم ولعلکم تشکرون
রমযান মাস হলাে সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্য পথযাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথনির্দেশ। আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তােমাদের মধ্যে যে লােক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রােযা রাখবে। আর যে লােক অসুস্থ কিংবা
মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তােমাদের জন্য সহজ করতে চান, তােমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না।যাতে তােমরা গণনা পূরণ কর এবং তােমাদের হেদায়েত দান করার দরুণ আল্লাহ তায়ালার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তােমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর।”
(সূরা আল বাকারা : আয়াত-১৮৫)

মাসআলা-২০: রমযান মাসে রাত্রে স্ত্রী সহবাস করা জায়েয।

মাসআলা-২১ :  ইফতারের পর থেকে সুবহে সাদেক পর্যন্ত সময়টুকু রােযা পালনের অন্তর্ভুক্ত নয়।

মাসআলা-২২:  এতৈকাফের সময় রাত্রে স্ত্রী সহবাস করা নিষেধ।
ساحل لکم ليلة الصيام الرفث إلى نسايکم هن لباس لکم وانتم لباس لهن علم الله انکم کنتم تختانون آنفسکم فتاب علیکم و عفاعنکم فالن باشرو هن وابتغوا ما كتب الله لکم " وکلوا   واشربوا حتي يتبين لکم الخيط الأبيض من الخيط الأسود من الفجر ثم آتموا الصيام إلى
الليل ولا تباشرو هن وانتم عکفون في المسجد تلک حدود الله فلا تقربوها گذلك يبين الله ايته لناس لعلهم يتقون
“রােযার রাতে তােমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তােমাদের জন্য হালাল
করা হয়েছে। তারা তােমাদের পরিচ্ছদ এবং তােমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ
অবগত রয়েছেন যে, তােমরা আত্মপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি।তােমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তােমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন । অত:পর তােমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস কর এবং যা কিছু তােমাদের জন্য
আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরণ কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কালাে রেখা থেকে ভােরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায় । অত:পর রােযা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত । আর যতক্ষণ তােমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সাথে মিশবে না। এই হলাে আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেয়া সীমানা ।অতএব, এর কাছেও যেও না। আল্লাহ নিজের আয়াতসমূহ মানুষের জন্য,
এমনিভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তারা বাঁচতে পারে।” (সূরা আল বাকারা: আয়াত-১৮৭)
❝আল্লাহ যেন প্রত্যেক মুসলমানদেরকে কোরআন হাদিসের দেখানো পথে চলার তাওফিক দান  করেন❞