রমযানের রোযা রাখার নিয়মাবলি ও জরুরী মাসআলা (পর্ব ২)

রমযানের রোযা রাখার নিয়মাবলি ও জরুরী মাসআলা (পর্ব ২)

رؤية الهلال

চাঁদ দেখার মাসায়েল

মাসআলা-২৩:  রমযানুল মােবারকের চাঁদ দেখে রােযা শুরু করা চাই।

মাসআলা-২৪ :  শাবান মাসের শেষে যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তাহলে শাবানের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা উচিত। আর যদি রমযানের শেষে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় তাহলে রমযানের ত্রিশ দিন পূর্ণ করা চাই ।

عن عمر رضى الله عنه قال : قال رسول الله ﷺ : لا تصومؤا حتی تروا الهلال ولا تفطرواحتی تروه فان غم علیكم فقدرو اله. متفق عليه.

উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যতক্ষণ চাঁদ দেখবে রােযা রাখবে না এবং যতক্ষণ চাঁদ না দেখবে রােযা খােল না, যদি চাঁদ তােমাদের কাছে গােপন থাকে তাহলে মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করাে।”

(বুখারী ও মুসলিম)

মাসআলা-২৫:  এক মুসলমানের সাক্ষীর ওপর রােযা শুরু করা যেতে পারে।

وعن ابن عمر رضى الله عنه  قال : ترای الناس الهلال فاخبرت النبي ﷺ ان رايته فصام وامر الناس بصیامه. رواه أبو داود. صحيح 

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “লােকেরা চাঁদ দেখেছে আমি নবী করীম (সঃ) কে বললাম, আমিও চাঁদ দেখেছি, তখন নবী (সঃ) নিজেও রােযা রাখলেন এবং লােকজনকেও রােযা রাখার আদেশ দিলেন।”

(আবু দাউদ)

মাসআলা-২৬ :  রমযান মাসের প্রথম তারিখের চাঁদ আপাত দৃষ্টিতে ছােট-বড় হওয়াতে কোনাে রকমের সন্দেহে পতিত হওয়া উচিত নয় ।

عن ابي البخري رضى الله عنه قال خرجنا للعمرة فلما نزلنا ببطني نخلة نراینا الهلال فقال بعض القوم هو ابن ثلاث وقال بعض القوم هو ابن ليلتين قال فلقينا ابن عباس رضى الله عنه ما قلنا أنا راينا الهلال فقال بعض القوم هو ابن ثلاث وقال بعض القوم هو إبن ليلتين فقال آئی ليلة رايتموه قال قلنا ليلة كذا وكذا فقال إن الله مذه للروية فهو لليلة رايتموه ، رواه مسليم

আবুল বুখারী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমরা ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, যখন 'বাতনে নাখলা’ নামক স্থানে উপস্থিত হলাম তখন আমাবস্যার (নতুন) চাঁদ দেখতে পেলাম। এ সময় কেউ বলতে লাগলেন,এতাে তিন তারিখের চাঁদ । আবার কেউ বললেন, এতাে দুই তারিখের চাঁদ।

তারপর আমরা ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম আমরা তাে চাঁদ দেখেছি। কিন্তু আমাদের কেউ কেউ বলছেন, এটি তৃতীয় রাত্রির চাদ। আবার কেউ কেউ বললেন, এটি দ্বিতীয় রাত্রির চাদ । তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তােমরা কোনাে রাত্রে চাঁদ দেখেছ? আমরা বললাম, অমুক রাত্রে। তিনি বললেন : রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন : “দেখার সুবিধার্থে আল্লাহ একে বর্ধিত করে দিয়েছেন, মূলত: এটি ঐ রাত্রিরই চাঁদ যে রাত্রে তােমরা দেখেছ ।” (মুসলিম)

মাসআলা-২৭; নতুন চাঁদ দেখলে এই দোয়া পড়া সুন্নাত।

عن طلحة بن عبيد الله رضى الله عنه ان النبي ﷺ : كان إذا رأى الهلال قال: اللهم اهله علينا بالأمن والإيمان والسلامة والإسلام ربي وربك الله. رواه الترمزي. -صحيح
তালহা ইবনে উবায়দিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) যখন চাঁদ দেখতেন তখন এই দোয়া পড়তেন, “আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি রাব্বী ওয়া
রাব্বুকাল্লাহু” (তিরমিযী)

মাসআলা-২৮:  চাঁদ দেখে রােযা শুরু করা এবং চাঁদ দেখে রােযা শেষ করার ব্যাপারে উপস্থিত এলাকা বা দেশের খেয়াল করতে হবে ।
মাসআলা-২৯ :  রমযান মাসে একদেশ থেকে অন্য দেশে সফর করার পর যদি মুসাফিরের রােযার সংখ্যা উপস্থিত এলাকায় রমযান মাসের রােযার সংখ্যা অপেক্ষা বেশী হয়, তাহলে বৃদ্ধি রােযাগুলাে ছেড়ে দিবে অথবা নফলের নিয়ত করে রাখবে। আর যদি সংখ্যা কম হয়, তাহলে অপূর্ণ রােযাগুলাে ঈদের পর
পূর্ণ করে দিবে ।
عن كريب مولى ابن عباس رضى الله عنه إن ام الفضل بعثته إلى معاوية بالشام .فقال فقدمت الشام، فقضيت حاجتها واستهل على رمضان وانا بالشام فرايت الهلال ليلة الجمعة ثم قدمت المدينة في آخر الشهر فسالني عبد الله بن عباس رضى الله عنه ثم ذكر الهلال فقال متى رايتم الهلال؟ فقل رأيناه ليلة الجمعة فقال انت رايته؟ قلت نعم وراه الناس وصاموا وصام معاوية.فقال لكنا رايناه ليلة السبت فلا نزال نصوم حتي نكمل ثلاثين او نراه فقلة آفلا نكتغي بروية معاوية وصيامه؟ فقال لا هكذا أمرنا رسول الله ﷺ.  رواه مسلم وأبو داود والنسائی ۔
কুরাইব (রহ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল ফল বিনতে হারিছ তাকে সিরিয়ায় মুআবিয়া (রাঃ) -এর নিকট পাঠালেন । (কুরাইব বলেন) আমি সিরিয়ায় পৌছলাম এবং তার প্রয়ােজনীয় কাজটি সমাধা করে নিলাম । আমি সিরিয়া থাকা অবস্থায়ই রমযানের চাঁদ দেখা গেল । জুমার দিন সন্ধ্যায় আমি চাঁদ দেখলাম ।
এরপর রমযানের শেষভাগে আমি মদীনায় ফিরলাম। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তােমরা কোনাে দিন চাঁদ দেখেছ? আমি বললাম, আমরা
তাে জুমার দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি আব্বাস (রাঃ) শুয়ে আমার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন
এবং চাদ সম্পর্কে আলোচনা করলেন। এরপর তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন,
তুমি নিজে দেখেছ কি? আমি বললাম, হ্যা, আমি দেখেছি এবং লােকেরাও দেখেছে। তারা সিয়াম পালন করেছে এবং মুআবিয়া (রাঃ) ও সওম পালন করেছেন। তিনি বললেন, আমরা কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখেছি। আমরা সিয়াম পালন করতে থাকব, শেষ পর্যন্ত ত্রিশ দিন পূর্ণ করব অথবা চাঁদ দেখব । আমি
বললাম, মুআবিয়া (রাঃ) এর চাঁদ দেখা এবং তার সওম পালন করা আপনার জন্য যথেষ্ট নয় কি? তিনি বললেন, না যথেষ্ট নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমাদেরকে এরূপ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।” 
(মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ)

মাসআলা-৩০;  মেঘের কারণে যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা না যায় এবং রােযা
রাখার পর জানা যায় যে, চাঁদ দেখা গেছে, তখন রােযা খুলে ফেলতে হবে।
عن أبي عمر بن انس رضى الله عنه عن عمومة له من الأنصار رضى الله عنه ، قالوا : غم علينا هلال شوال فاصبحنا صياما فجاء ركب من أخر النهار فشهدوا عند رسول الله ﷺ  انهم راوا الهلال بالامس فاخر الناس آن يفطروا من يومهم وآن
يخرجوا لعيدهم من الغد ، رواه أبو داود.
আবু উমাইর ইবনে আনাস (রাঃ) তিনি তার আপন এক আনসারী চাচা থেকে বর্ণনা
করেন, তাঁরা বলেছেন, “মেঘের কারণে আমরা শাওয়ালের চাঁদ দেখিনি বলে রােযা
রেখেছিলাম । পরে দিনের শেষ ভাগে একটি কাফেলা আসল । তারা নবী করীম (সঃ)-এর কাছে রাত্রে চাঁদ দেখেছে বলে সাক্ষী দিল। রাসূল ও লােকজনকে সেই দিনের রােযা ভেঙ্গে দেয়ার আদেশ দিলেন এবং তার পরের দিন সকালে ঈদের নামাজে আসতে বললেন।” 
(আহমদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

হাদীসের জন্য ঈদের নামাজের মাসায়েল’ অধ্যায়ে মাসআলা নং-১৭৭ দ্রষ্টব্য।
النية
নিয়তের মাসায়েল

মাসআলা-৩১;  সকল কর্মের প্রতিদান ও সাওয়াব নিয়তের ওপর নির্ভর করে।

عن عمر بن الخطاب رضى الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ يقول انما الآعمال بالنيات وانما لكل امرء مانوا فمن كانت هجرته الي دنيا يصبها او إلى مراة ينكحها فهجرته الي ماهجر إليه. رواه البخاری 
উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছি, সব কাজই নিয়ত (সংকল্প) অনুযায়ী হয়। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করে তাই পায়। কাজেই যার হিজরত দুনিয়া লাভের বা কোনাে মেয়েকে বিয়ে করার নিয়তে হয়েছে তার হিজরত উক্ত উদ্দেশ্যেই হয়েছে।” (বুখারী)

 মাসআলা-৩২;  লােক দেখানাে উদ্দেশ্যে রােযা রাখা শিরক।
عن شداد بن اوسی رضى الله عنه قال سمعت رسول الله ﷺ يقول من صلی يرائی فقد أشرك ومن صام يرائی فقد أشرك ومن تصدق يرائی فقد أشرك . رواه احمد
শাদ্দাদ ইবনে আউস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ(সঃ) - কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি লােক দেখানাে উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ল, সে শিরক করল। যে ব্যক্তি লােক দেখানাে উদ্দেশ্যে রােযা পালন করল, সে শিরক করল। আর যে ব্যক্তি লােক দেখানাে উদ্দেশ্যে সদকা করল, সেও শিরক
করল।” (মুসনাদে আহমদ)

মাসআলা-৩৩ :  রােযার নিয়ত হৃদয়ের ইচ্ছায় হয়ে যায়। প্রচলিত শব্দ  بصوم غد نويت [বিসাওমি গাদিন নাওয়াইতু]বলা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয় ।

মাসআলা-৩৪ : ফরজ রােযার নিয়ত ফজরের পূর্বে করা জরুরি।
 عن حفصة رضى الله عنها قالت قال رسول الله ﷺ  علم من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صیام له. رواه أبو داود والترمذي. (صحیح
হাফছা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের পূর্বে রােযার নিয়ত করবে না তার রােযা হবে না।" (আবু দাউদ, তিরমিযী]

মাসআলা-৩৫ :  নফল রােযার নিয়ত দিনে সূর্য ঢালার পূর্বে যে কোনাে সময়ে করা যেতে পারে।

মাসআলা-৩৬: নফল রােযা যে কোনো সময় যে কোনাে কারণে ভাঙ্গা যেতে পারে।

عن عائشة ام المؤمنین رضى الله عنها قالت : دخل على النبي ﷺ  ذات يوم فقال هل عندكم شيئ فقلنا لا قال فان اذن صايم آتانا يوما أخر فقلنا یا رسول الله آهدئ لناحيس فقال آرينيه فلقد أصبحت صائما فاكل. رواه مسلم

আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ)- আমাকে বললেন, হে আয়েশ! তােমার নিকট (খাওয়ার মতাে) কোনাে কিছু আছে কি?আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট কিছুই নেই । তখন তিনি
বললেন, তাহলে আমি সিয়াম পালন করছি। এরপর আরেক দিন তিনি
আমাদের কাছে এলেন। আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের জন্য
হায়স (ঘি এবং পনির মিশ্রিত খেজুর] হাদিয়া পাঠানাে হয়েছে। তিনি বললেন,
তুমি তা আমাকে দেখাও ,আমার তাে ভাের হয়েছে রােযাবস্থায় । তারপর তিনি
তা আহর করলেন।” (মুসলিম)

السحور والإفطار
সাহরী ও ইফতারের মাসায়েল

মাসআলা-৩৭:  সাহরী খাওয়ায় বরকত রয়েছে ।
মাসআলা-৩৮ :  ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর জেনে শুনে সাহরী ছাড়বে না।
عن انس رضى الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ: تسحروا فان في السحور بركة. متفق عليه
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “তােমরা
সাহরী খাও কেননা সাহরীতে বরকত আছে।” (বুখারী ও মুসলিম)

মাসআলা-৩৯ :  রমযানে ফজরের আযানের পূর্বে সাহরীর জন্য আযান দেয়া সুন্নাত।
عن عائشة رضى الله عنها أن بلالا كان يوذن بليل فقال رسول الله ﷺ : كلوا واشربوا حتئ يوذن ابن ام مكتوم فانه لايوذن حتى يطلع الفجر . رواه البخاري -
আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত তিনি বলেন, বেলাল রাত্রি থাকতে আযান দেয়। তাই
রাসূলে করীম (সঃ) বলেছেন, “তােমরা খানা-পিনা করতে থাক যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম আযান দেয়। কেননা সে ফজর না হওয়া পর্যন্ত আযান দেয় না।”(বুখারী)

মাসআলা-৪০:  ইফতার তাড়াতাড়ি ও সাহরী দেরীতে খাওয়া নবীগণের তরীকা ।
عن أبي الدرداء رضى الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ : ثلاث من أخلاق النبوتي تعجيل الافطار وتأخير السحور ووضع اليمين على الشمال في الصلاة، رواه الطبراني صحيح

আবুদ্দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “তিনটি বিষয় নবীগণের চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। ১, তাড়াতাড়ি ইফতার করা ২, সাহরী দেরীতে খাওয়া৷        ৩. নামাজ অবস্থায় ডান হাতকে বাম হাতের উপর বাঁধা।”(ত্বাবরানী)।

মাসআলা-৪১;  সাহরী খেতে খেতে আযান হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ খানা না ছেড়ে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেয়া দরকার।
عن أبي هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ : إذا سمع النداء احدكم والاناء في يده فلا يضعه حتي يقضي حاجته منه. رواه أبو داود. صحيح
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যখন তােমাদের কেউ আযান শুনে আর খাওয়ার বাসন তার হাতে থাকে তখন সে তা রেখে না দেয় যতক্ষণ না তা থেকে আপন আবশ্যক পূর্ণ করে।” (আবু দাউদ)

মাসআল-৪২: রােযার ইফতারের জন্য সূর্যাস্ত যাওয়া শর্ত।
عن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : إذا أقبل الليل من ههنا وأدبر النهار من ههنا وغربت الشمس فقد افطر الصائم. متفق عليه
উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যখন রাত্রি আগমন করে আর সূর্যাস্ত হয়ে যাবে তখন রােযাদার ইফতার করবে।” (বুখারী ও মুসলিম)
বি:দ্র: সফরকালীন জাহাজে সাওয়ার হওয়ার সময় ইফতারের সময় ১৫ মিনিট বাকী ছিল, কিন্তু জাহাজ উদ্দিষ্ট উর্ধ্বগমনের পর ১ ঘণ্টা পরে সূর্য অস্ত গেল ।তখন রােযাদারকে এক ঘন্টা পরেই ইফতার করতে হবে। এমনিভাবে সাহরীর সময়কেও উপস্থিত স্থানের খেয়াল করে ঠিক করতে হবে।

মাসআলা-৪৩ : তাজা খেজুর, শুকনাে খেজুর অথবা পানি দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত।

মাসআলা-৪৪ : লবণ দ্বারা ইফতার করা সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত নয় ।
عن انس ابن مالك رضى الله عنه قال: كان النبي ﷺ يفطر قبل أن يصلي على رطبات فإن لم تكن رطبات فتميرات فإن لم تكن تميرات حسا حسوات من ماء رواه ابو داود. والترمذي. (حسن)۔

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “নবী করীম (সঃ) মাগরিবের নামাজের
পূর্বে কয়েকটি তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না
থাকত শুকনাে খেজুর দ্বারা করতেন। যদি শুকনা খেজুরও না থাকত, তবে
কয়েক কোশ পানি পান করতেন।” (আবু দাউদ ও তিরমিযী)

মাসআলা-৪৫ :    রােযাদার ইফতারের সময় নিম্নের দোয়া পড়া সুন্নাত ।
عن ابن عمر رضى الله عنه : كان النبي ﷺ اذا افطر قال: ذهب الظم وابتلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله. رواه أبو داود. (حسن)۔
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, “নবী করীম (সঃ) যখন রােযার ইফতার করতেন, তখন এই দোয়া পড়তেন, [যাহাবায় যােয়ামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া ছাবাতল আজরু ইনশাআল্লাহ]' অর্থাৎ তৃষ্ণা দূর হলাে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলাে এবং আল্লাহ চান তাে সওয়াব নির্ধারিত
হলাে।” (আবু দাউদ)

মাসআলা-৪৬ :  রােযাদারকে ইফতার করালে রােযাদারের সমান সাওয়াব প্রাপ্ত হবে।
عن زيد ابن خلد الجهني رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : من فطر صائما كان له مثل أجره غير أنه لا ينقص من أجر الصائم شيئا. 
رواه الترمذ صحيح

যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী (রাঃ) বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি
রােযাদারকে ইফতার করাবে সে রােযাদারের সমান সওয়াব পাবে এবং রোযাদারের সাওয়াবও কোনাে ক্ষেত্রে কম করা হবে না।” (তিরমিযী)

মাসআলা-৪৭; যে ব্যক্তি ইফতার করাবে তার জন্য দোয়া করা উচিত।
عن انس رضى الله عنه قال: كان رسول الله ﷺ إذا أفطر عند قوم قال: افطر عنكم الصائمون واكل طعامكم الأبرار وتنزلت عليكم الملائكة. رواه أحمد صحيح۔
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন কারাে কাছে ইফতার করতেন তখন এই দোয়া পড়তেন,
[আফত্বারা ইনদাকুমুসসায়িমুন ওয়া আকালা ত্বায়ামাকুমুল আবরারু ওয়া তানায্যালাত আলাইকুমুল মালায়িকাতু।] (আহমদ)