এতেকাফের ফযীলত ও গুরুত্ব, এতেকাফের শর্তসমূহ

 

এতেকাফের ফযীলত ও গুরুত্ব, এতেকাফের শর্তসমূহ 

এতেকাফ

এতেকাফের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, কোন জিনিসকে আঁকড়ে ধরা এবং এর উপর নিজ সত্তা ও আত্মাকে আটকে রাখা। আর পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তির মসজিদে বাস ও অবস্থান করা। সকল সময় এতেকাফ জায়েয। তবে রমযান মাসে উত্তম এবং রমযানের শেষ দশকে কদরের উদ্দেশ্যে তা সর্বোত্তম।

এতেকাফ এমন এক বৈধ নির্জনতা যেখানে ব্যক্তি আল্লাহর এবাদত, জিকির ও আনুগত্যের উদ্দেশ্যে নিজের আত্মা ও সত্তাকে একান্তভাবে নিয়ােজিত করে এবং নামায, রােযা, কোরআন তেলাওয়াত, ইসলামী জ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় নিজেকে সম্পূর্ণ ব্যস্ত রাখে। একই কারণে তিনি দুনিয়ার সকল কাজ ও ব্যস্ততা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দূরে থাকেন। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের পথে যেন কোন দুনিয়াবী চিন্তা ও কাজ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে। এতেকাফ কিছুতেই বৈরাগ্যবাদ নয়। বৈরাগ্যবাদ স্থায়ী জিনিস আর এতেকাফ হচ্ছে সাময়িক।

এতেকাফের হেকমত

আল্লামা হাফেজ ইবনে রজব বলেছেনঃ “এতেকাফের উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং স্রষ্টার সাথে সম্পর্ক কায়েম করা। আল্লাহর সাথে পরিচয় যত গভীর হবে, সম্পর্ক ও ভালবাসা তত গভীর হবে এবং তা বান্দাকে পুরােপুরি আল্লাহর কাছে নিয়ে যাবে।

আল্লামা ইবনুল কাইয়েম বলেছেনঃ আল্লাহর পথে যাত্রা অব্যাহত রাখা নির্ভর করে যােগ্য ও সঠিক মনের উপর। মন শতধা বিচ্ছিন্ন থাকলে সে পথে অগ্রসর হওয়া যায় না। সে জন্যই মনকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করা দরকার। অথচ অতিরিক্ত পানাহার, মানুষের সাথে অতিরিক্ত মেলামেশা, বেহুদা ও বেশী কথাবার্তা এবং অতিরিক্ত ঘুম মনকে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত করে রাখে এবং ব্যক্তিকে সকল উপত্যকায় বিচরণ করায়। সে জন্য আল্লাহর পথে যাত্রা বাধা প্রাপ্ত হয় কিংবা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই মেহেরবান আল্লাহ রােযার মাধ্যমে অতিরিক্ত পানাহার ও যৌন কামনাকে রােযার বিধানের মাধ্যমে দূর করার ব্যবস্থা করেছেন।

আর এতেকাফের উদ্দেশ্য হলাে, আল্লাহর ব্যাপারে মন নিবিষ্ট করা, তার সাথে নির্জনে বাস করা এবং স্রষ্টার উদ্দেশ্যে সৃষ্টি থেকে দূরে অবস্থান করা যাতে করে তার চিন্তা ও ভালবাসা মনে স্থান করে নিতে পারে।

এতেকাফের ফযীলত

আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ–

من اعتكف يوما ابتغاء وجه الله عز وجل جعل الله بينهو وبين النار ثلاث خنادق كل خندق ابعد ما بين الخافقين

অর্থঃ–“যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন এতেকাফ করে, আল্লাহ সেই ব্যক্তি ও দোজখের মধ্যে ৩ খন্দক পরিমাণ দূরত্ব সৃষ্টি করেন।' (তাবারানী ও হাকেম)

প্রত্যেক খন্দক পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের চাইতে আরাে বহুদূর।

আলী বিন হােসাইন(রাঃ) নিজ পিতা থেকে বর্ননা করেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ–

من اعتكف عشرا في رمضان كان كحجتين وعمرتين

অর্থ : “যে ব্যক্তি রমযানে ১০ দিন এতেকাফ করে, তা দুই হজ্জ ও দুই ওমরার সওয়াবের সমান।' (বায়হাকী)

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এতেকাফকারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “এতেকাফকারী গুনাহ থেকে বিরত থাকে। তাকে সকল নেক কাজের কর্মী বিবেচনা করে বহু সওয়াব দেয়া হবে।' (ইবনে মাজাহ)

এতেকাফের হুকুম

এতেকাফ সুন্নত। রমযানের শেষ দশ রাত্রে কদরের রাত্রির অন্বেষণে এতেকাফ করার বিধান চালু হয়েছে। কিন্তু এতেকাফের মান্নত করলে তা পালন করা ওয়াজিব হবে। রমযান ছাড়াও যে কোন সময় মসজিদে অনির্ধারিত সময় ব্যাপী এতেকাফ করা যায়। পবিত্র কোরআন মজীদে আল্লাহ বলেছেনঃ

وطهر بيتي للطائفين والعاكفين.

অর্থ : আমার ঘরকে তাওয়াফ ও এতেকাফকারীদের জন্য পবিত্র রাখাে।কোরআনেও এতেকাফের গুরুত্বের উল্লেখ আছে।

এতেকাফ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, আবু হােরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রমযানে ১০ দিন এতেকাফ করতেন কিন্তু ইন্তেকালের বছর তিনি ২০ দিন এতেকাফ করেন।' (বােখারী)

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমৃত্যু রমযানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন।' (বােখারী ও মুসলিম)

এতেকাফের মান্নত করে তা আদায় করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুইটি হাদীস আছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ–

من نذر أن يطيع الله فليطعه.

অর্থঃ- কারুর মান্নত যদি আল্লাহর আনুগত্যের জন্য হয়, তা যেন পূরণ করা হয়।       (বােখারী ও মুসলিম)

ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,ওমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে জিজ্ঞেস করেন,আমি জাহেলিয়াতের যুগে মসজিদে হারামে এক রাত এতেকাফ করার নিয়ত করেছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তােমার মানত পূরণ করাে।

এতেকাফের শর্তঃ–

১. মুসলমান হওয়া

২, পাগল না হওয়া

৩. বালেগ হওয়া

৪. নিয়ত করা

৫. ফরজ গােসলসহ হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া।

৬, মসজিদে এতেকাফ করা।

জামে মসজিদে এতেকাফ করা উত্তম। এটা ইমাম মালেকের মত। ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের মতে, “যে মসজিদে জামাআত সহকারে নামায হয় না, সে মসজিদে এতেকাফ জায়েয নেই।

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন :

ولا اعتكاف الأ في مسجد جماعة.

‘যে মসজিদে জামাআত হয় সে মসজিদ ছাড়া এতেকাফ হবে না।' (আবু দাউদ)

হযরত হােজাইফা ও ইবনুল মােসাইয়েব বলেছেন, তিন মসজিদ ছাড়া এতেকাফ জায়েয নেই। সেগুলাে হচ্ছে মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিদে আকসা।  আতা বিন আবি রেবাহর মতে, মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববী ছাড়া এতেকাফ বিশুদ্ধ হবে না।

৭, রোযা রাখা। তবে রােযার শর্তের ব্যাপারে মতপার্থক্য আছে। ইমাম শাফেয়ীর মতে রােযা ছাড়া এতেকাফ জায়েয আছে। ইমাম আহমদের মতও তাই। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম মালেকের মতে, রােযা ছাড়া এতেকাফ জায়েয নেই।ইমাম আহমদের মতও তাই। (ওজায়েফ শাহরি রামাদাল আল- মােআজ্জামহাফেজ ইবনে রজব)

মসজিদে এতেকাফের শর্ত এ জন্য যেন নামাযের জামাআত হারিয়ে না যায়।ইবনে আব্বাসকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি দিনে রােযা রাখে, রাত্রে তারাবীর নামায পড়ে, তবে জামাআতে নামায আদায় করে না এবং জুম'আর নামায পড়ে তিনি উত্তরে বললেন, সে জাহান্নামে যাবে।

মূলকথা, এতেকাফ যত নির্জন হয় এবং লােকজনের সাথে মেলামেশা যত কম হয় ততই ভাল। এতেকাফকারী আল্লাহর কাছে নীরবে একাকী দোয়া ও কান্নাকাটি করবে এবং ইবাদত করবে। 

সে জন্য ইমাম আহমদ বলেছেনঃ

এতেকাফের সময় কাউকে এলেম ও কোরআন শিক্ষা না দেয়াই উত্তম।

এতেকাফের মােস্তাহাব বিষয়

১. বেশী বেশী নামায পড়া, কোরআন তেলাওয়াত, অর্থ ও ব্যাখ্যাসহ তাফসীর পড়া এবং ইসলামী সাহিত্য ও বই পুস্তক পড়া, অর্থাৎ দ্বীনী এলেম অর্জন করা।

২, বেহুদা কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকা। ঝগড়া ঝাটি এবং গাল-মন্দ না করা।

৩. মসজিদের একটি অংশে অবস্থান করা।

নাফে (রাঃ) থেকে বর্ণিত : আবদুল্লাহ বিন ওমর আমাকে মসজিদে নববীতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এতেকাফের সুনির্দিষ্ট স্থানটি দেখিয়েছেন।' (মুসলিম)

এতেকাফকারীর জন্য যা যা করা জায়েয

১. জরুরী কাজের জন্য মসজিদের বাইরে যাওয়া। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন, এতেকাফকারীর জন্য সুন্নত হল, রােগী দেখতে না যাওয়া, জানাযায় অংশ গ্রহণ না করা, স্ত্রী স্পর্শ না করা এবং সহবাস না করা এবং খুব বেশী প্রয়ােজন না হলে মসজিদ থেকে বের না হওয়া। (আবু দাউদ)

২. মসজিদে পানাহার ও ঘুমানাে। তবে মসজিদের পবিত্রতা রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
৩, জায়েয কথা বলা ও প্রয়ােজন হলে অন্যের সাথে কথা বলা।
৪. চুলের সিথি কাটা, নখ কাটা, শরীর পরিষ্কার করা, ভাল কাপড় পরা এবং সুগন্ধ মাখা। 
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মসজিদে এতেকাফ করতেন। তিনি হুজরার ভেতর মাথা ঢুকিয়ে দিতেন। আমি মাথায় সিথি করে দিতাম।' (বােখারী ও মুসলিম)

৫, নিজ পরিবারের লােকদেরকে বিদায় জানানাের জন্য বের হওয়া। হযরত সফিয়া থেকে বর্ণিত হাদীসে অনুরূপ ঘটনা জানা যায়।
এতেকাফকারীর জন্য যা মাকরূহঃ–
১. বেচাকেনা,
২. যে কথায় গুনাহ হয়,
৩, চুপ থাকাকে এবাদত মনে করে কোন কথা না বলা।
যেসব কাজ দ্বারা এতেকাফ ভঙ্গ হয়ঃ– 

১. বিনা কাজে স্বেচ্ছায় অল্প সময়ের জন্য হলেও মসজিদ থেকে বের হওয়া।
২. সহবাস করা, আল্লাহ বলেন,
ولا تباشروهن وانتم عاكفون في المساجد .
“তােমরা স্ত্রীদের সাথে যৌন মিলন করাে না যখন তােমরা মসজিদে এতেকাফে থাকো।' (সূরা বাকারা-১৮৭)
৩. পাগল হওয়া,

৪. স্ত্রীলােকের হায়েজ-নেফাস হওয়া,
৫, ধর্মত্যাগী (মােরতাদ) হওয়া।

এতেকাফে প্রবেশ ও তা শেষ হওয়ার সময়কালঃ
কোন ব্যক্তি এতেকাফের নিয়তে যে সময় মসজিদে প্রবেশ করবে সেটাই তার
এতেকাফের সময় হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর যখন শেষ করার নিয়তে বের
হয়ে পড়বে তখনই এতেকাফ শেষ হয়ে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, কেউ রমযানের শেষ ১০ দিন এতেকাফ করতে চাইলে সূর্যাস্তের আগে মসজিদে প্রবেশ
করবে এবং রমযানের সবশেষ দিন সূর্যাস্তের পর মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসবে।

বিবিধ বিষয়
১. সুন্নত এতেকাফ শুরু করার পর তা কোন কারণে পূর্ণ করতে না পারলে পরবর্তীতে কাজা আদায় করা উত্তম। হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে জানা যায়, একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) শাওয়াল মাসে তা কাযা করেন।
২. মহিলাদের এতেকাফের স্থান নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ কেউ বলেছেন, ঘরে এতেকাফ করাই উত্তম। আবার কেউ কেউ বলেছেন, মসজিদে নিরাপদ হলে সেখানেও এতেকাফ করা যায়। তবে শর্ত হলাে, স্বামীর অনুমতি নিয়ে এতেকাফে বসতে হবে। বিনা অনুমতিতে বসলে স্ত্রীকে এতেকাফ থেকে সরিয়ে নেয়ার 
অধিকার স্বামীর আছে।
যারা মসজিদ ছাড়া এতেকাফ করা জায়েয নেই বলেন, তাদের যুক্তি হলাে ।

আল্লাহ কোরআন মজীদে বলেন,
 ولا تباشروهن وانتم عاكفون في المساجد
‘তােমরা মসজিদে এতেকাফ অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে যৌন মিলন করাে না।' 
(সূরা বাকারা-১৮৭)
এ আয়াতে মসজিদেই কেবল এতেকাফের কথা বলা হয়েছে। ঘরকে মসজিদ বলা হয় না। তাই মহিলারা ঘরে এতেকাফ করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। নারী হােক আর পুরুষ হােক, সকলেরই মসজিদে এতেকাফ করা উচিত। তাই নবী (সঃ) পত্নীরাও মসজিদেই এতেকাফ করেছেন।
ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, যে মসজিদে জামাআতে নামায অনুষ্ঠিত হয় না, সে
মসজিদেও মহিলারা এতেকাফ করতে পারবে।
রমযানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজ স্ত্রীদেরকে জাগাতেন এবং রাত্রি জাগরণে অংশগ্রহণ করাতেন। তিনি যখন মসজিদে এতেকাফ করেন তখন তাঁর স্ত্রীরা তাকে বেশী বেশী দেখতে আসেন ও উৎসাহ দেন। এমনকি কদরের বকরত লাভের জন্য কখনও কখনও তাঁরা এতেকাফ করেন। যখন তিনি জানতে
পারলেন যে, তাঁরা তাঁর সাথে মসজিদে এতেকাফের বিষয়ে প্রতিযােগিতায়
নেমেছেন তখন তিনি তাদের মধ্যে গর্ব-অহংকারের আশংকা করেন এবং একবার
মসজিদ থেকে তাদের এতেকাফের তাঁবু সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শেষ দশকে এতেকাফ করেছেন। তারপর তাঁর স্ত্রীরাও এতেকাফ করতেন। (বােখারী, মুসলিম, আবু দাউদ)
অন্য আরেক হাদীসে এসেছে, তিনি এতেকাফ করার জন্য মসজিদে তাবু টানানােনার নির্দেশ দেন। তবু নির্মাণ করা হলাে,তাঁর স্ত্রী জয়নব সহ অন্যান্য স্ত্রীরাও তাবু টানানাের নির্দেশ দেন। ফজরের সময় তিনি এতাে তাঁবু দেখে বললেন,কল্যাণ নেমে এসেছে। তারপর তিনি তাঁবুগুলাে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন এবং
নিজেও সেই বছর রমযানে এতেকাফ ছেড়ে দেন ও শাওয়াল মাসের প্রথম ১০ দিন এতেকাফ করেন। (মুসলিম)

ইমাম নওয়ী কাদী আয়াজের বরাত দিয়ে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আশংকা
করেছিলেন যে, তাঁর স্ত্রীরা প্রয়ােজনের অতিরিক্ত তাঁর নৈকট্য লাভ করতে চান।
ফলে তাঁকে মসজিদে থাকা সত্ত্বেও যেন নিজ ঘরের পরিবেশে থাকতে হবে। অথচ পরিবার পরিজন থেকে দূরে নিরিবিল পরিবেশে এবাদত করার জন্যই এতেকাফ করতে হয়। ইমাম নওয়ী বলেন, মহিলাদের এতেকাফের পক্ষে এই হাদীস একটি প্রমাণ। যদিও সাময়িক কারণে তা বন্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ীভাবে তা বন্ধ করা হয়নি।
এতেকাফের বিরাট সওয়াব ও মর্যাদা লাভ করার জন্য সবারই সচেষ্ট হওয়া দরকার। বিশেষ করে তা মসজিদে, রমযানে এবং রমযানের শেষ দশকে হওয়ার কারণে এর মর্যাদা বহু বহু গুণ বেশী।