ইসলাম ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ-১


             ♻️ 
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিচয় ♻️   

➡⏮️  প্রাকৃতিক দুর্যোগ মূলত স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মের মধ্যে ব্যতিক্রম ঘটনা বা ঘটনাবলি । সে হিসেবে , প্রাকৃতিক সাধারণ নিয়মের ব্যতয় যেকোনো ঘটনাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে । 

 ➡⏮️  বিশাল এ পৃথিবীতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিপুল অনুগ্রহভাণ্ডার শুধুই মানুষের কল্যাণের জন্য । তবে মাঝেমধ্যে মহান আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে প্রকৃতিতে নেমে আসে বহুমুখী বিপর্যয় ও দুর্যোগ ।

 সাম্প্রতিককালের ‘ করোনাভাইরাস ' নামের ভয়াবহ মহামারি ও মরণব্যাধি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে মহান আল্লাহর বাণীর সত্যতা । পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা ➡

ولنبلو نکم بشيء من الخوف والجوع ونقص من

               .  الاموال والاانفس والثمرت

⏺ অর্থ : আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ,ভয় , ক্ষুধা , সম্পদহানি , প্রাণহানি ও শস্যহানি দ্বারা ।
 ( সুরা বাকারা , সুরা নং ২ , আয়াত নং ১৫৫ )
 
➡⏮️  আল্লাহর ছোট একটিপরীক্ষা করোনাভাইরাস ' নিয়ে বিশ্বব্যাপী এখন তুমুল হৈচৈ । করোনা আতঙ্কে সারা পৃথিবীর মানুষ এখন আতঙ্কিত । কে কখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবে , তা নিয়ে বিশ্ববাসীর উৎকণ্ঠার শেষ নেই । বিজ্ঞানী , চিকিৎসক , রাজনীতিবিদ , সবাই এখন করোনা থেকে বাঁচার কৌশল প্রণয়নে ব্যস্ত । কিন্তু কারো কোনো কৌশল তেমন একটা কাজে আসছে না । করোনা রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা কেবল বাড়ছেই ।
          ♻️
প্রকৃতির কোনো ক্ষমতা নেই♻️   
    
➡⏮️  উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও যেকোনো উপায়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসতে পারে । প্রাকৃতিক দুর্যোগ কখনোই কোনো দৈবাৎ দুর্ঘটনা নয় । যা কিছু ঘটে তা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলার সূক্ষ্মপরিকল্পনার অংশ মাত্র । প্রকৃতির কোনো ক্ষমতা নেই বিপর্যয় বয়ে আনার । রোগের কোনো ক্ষমতা নেই কাউকে আক্রান্ত করার । সকল ক্ষমতার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ । আল্লাহর নির্দেশেই রোগ ব্যাধি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে । পবিত্র কুরআন মাজিদে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ঘোষণা ➡
ماأصاب من مصيبة الا باذن  .الله ومن يومن باالله  يهد قلبه والله بکل شيء عليم

⏺  অর্থ : আল্লাহর নির্দেশ ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না । আর যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখে , আল্লাহ তাকে সৎপথে পরিচালিত করেন । আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ে সর্বজ্ঞ ।
 ( সুরা তাগাবুন , সুরা নং ৬৪ , আয়াত নং ১১ )

 ♻️  আল্লাহর শক্তির কাছে মানুষ অসহায়♻️ 


 ➡⏩  আল্লাহর শক্তির কাছে মানুষ অসহায় । ধ্বংস ও বিপর্যয়ের বহু কাহিনি বর্ণিত হয়েছে পবিত্র কুরআনে । আল্লাহদ্রোহিতা ও সীমালঙ্ঘনের কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বহু জাতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন । প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ মানুষের অপকর্ম ।

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে➡

 وما اصابکم من مصيبة فبما کسبت ايديکم ويعفوا عن گثير                                                         

⏺  অর্থ : তোমাদের ওপর যেসব বিপদ - আপদ পতিত হয় , তা তোমাদের কর্মেরই ফল । তিনি তোমাদের অনেক অপরাধই ক্ষমা করে দেন । 

 ( সুরা শুরা , সুরা নং ৪২ , আয়াত নং ৩০ )

➡⏩  অর্থাৎ , মানুষের গুনাহই মানুষের জন্য বিপদ - আপদ ডেকে আনে । মানুষ যখন গুনাহ ছেড়ে দেয় , তখন সে নিরাপদে দুনিয়াতে বসবাস করতে পারে । তার কোনো বিপদ - আপদ থাকে না । দয়াময় আল্লাহ তাঁর বান্দার সকল গুনাহর শাস্তি দেন না , অনেক গুনাহই ক্ষমা করে দেন । মানুষ যেই হারে গুনাহে লিপ্ত , যদি তিনি তাঁর বান্দার সকল গুনাহর শাস্তি দিতেন , তবে মানুষসহ দুনিয়ার সকল প্রাণী ধ্বংস হয়ে যেতো । কিন্তু আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু । আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অন্যত্র বলেন ➡

ظهر الفساد فى البر والبحر بما کسبت ايدى الناس ليذيقهم بعض الذى عملوا لعلکم يرجعون

⏺  অর্থ : মানুষের কৃতকর্মের কারণে জলে - স্থলে বিপর্যয় প্রকাশ পায় । যার ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের শাস্তি তাদেরকে আস্বাদন করান , যাতে তারা ফিরে আসে ।
  ( সুরা রুম , সুরা নং ৩০ , আয়াত নং ৪১ ) 

➡⏮️  অর্থাৎ , গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্যে দুনিয়াতে কিছুটা দুঃখ - কষ্ট দিয়ে পরকালের কঠিক শাস্তির কথা মনে করিয়ে দেন । পরকালের শাস্তির কথা মনে পড়লে দুনিয়ার গুনাহ ছেড়ে দিবে । তখন দুনিয়ার বিপদ - আপদ দূর হয়ে যাবে এবং পরকালের কঠিন শাস্তি থেকেও রক্ষা পাবে । 

➡⏮️  মহান আল্লাহ মাঝেমধ্যে তাঁর বান্দাদের তাঁর বিশাল ক্ষমতার কিছু নিদর্শন দেখান , যেন মানুষের বোধোদয় ঘটে । পবিত্র কুরআনুল কারিমে তিনি বলেন➡
                          .وما نرسل باالايت الا تخويفا
    
⏺  অর্থ : আমি কেবল ভীতি প্রদর্শনের জন্যই নিদর্শন প্রেরণ করি ।
 ( সুরা বনি ইসরাইল , সুরা নং ১৭ , আয়াত নং ৫৯ )
 
🔄  আল্লাহ সবাইকে বোঝার তাওফিক দান করুন ,     আমিন !