জিলহজ্ব মাসের ফযিলত ও করনীয় আমল সমুহ।

 

জিলহজ্ব মাসের ফযিলত ও করনীয় আমল সমুহ। 


জিলহজ্ব মাসের ফযিলতঃ

 জিলহজ্ব মাসের ফযিলত বর্ণনায় এতটুকুই যথেষ্ট যে, ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ্বের মত একটি পবিত্র ইবাদত এই মাসের মধ্যেই আদায় করার বিধান রয়েছে বিধায় 'জিলহজ্ব’ বলে এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে। হজ্বের সাথে সাথে কুরবানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতটিও এই মাসের ১০ তারিখে সম্পাদন করা হয়। তাছাড়া এই জিলহজ্ব মাসের নবম তারিখ বাদ আসর আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সর্বাধিক সাফল্যমণ্ডিত আয়াতখানা নাযিল হয়, যাতে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ কল্যাণের উৎস ও মনোনীত ধর্ম বলে ঘোষিত হয়েছে ।

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের ফযিলতঃ

হাদীস শরীফে আছে, আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীর জন্য জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের চাইতে এত উত্তম আর কোন দিন নেই। [তিরমিযী]

উক্ত হাদীসের আলোকে হাদীসশাস্ত্র-বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণ বলেন, বছরের সমস্ত কাল ও সময়ের তুলনায় জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশক অধিক ফযিলতপূর্ণ। এমনকি সামগ্রিক বিচারে জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশকের দিনগুলো রমজানের শেষ দশকের দিবসসমূহের চেয়ে অধিকতর মর্যাদার অধিকারী । কারণ, এ দিনগুলোতে তালবিয়াহ-এর দিন, আরাফার দিন ও কুরবানীর দিন রয়েছে। তবে রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো জিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাতসমূহের চেয়ে অধিকতর মর্যাদার অধিকারী ।

কারণ, তাতে শবে-কদর রয়েছে। [যাদুল মাআদ]

জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমলসমূহঃ

১. একটি বিশেষ আমল: হাদীস শরীফে আছে, যেসব লোক জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানীর পূর্বক্ষণ পর্যন্ত নিজ দেহের কোন পশম বা চুল, নখ না কেটে কুরবানীর দিন পর্যন্ত জবাইয়ের পর এগুলো পরিষ্কার করে, তাহলে সে ব্যক্তি একটি পূর্ণ কুরবানী করার সওয়াব পাবে।[আবু দাউদ]

 চাই সে কুরবানী করুক বা গরীব হওয়ার দরুন কুরবানী না করুক । [মুফতী জসীমুদ্দীন, কুরবানী কি]

উক্ত আমলটি করার নিয়ম হলো, জিলহজ মাস শুরু হবার আগেই চুল-নখ ইত্যাদি পরিষ্কার করে নিবে। যদি পরিষ্কার না করার দরুন চল্লিশ দিনের বেশি সময় হয়ে যায়, তাহলে গুনাহগার হবে। তাই চল্লিশ দিনের আগেই এগুলো পরিষ্কার করা জরুরি। যদিও তখন জিলহজ মাসের চাঁদ উদিত হয়ে যায় । (মাওলানা সাইফুল্লাহ, মাসায়েলে উহিয়্যাহ]

. দিনে রোযা রাখা : হাদীস শরীফে আছে, জিলহজ মাসের প্রথম দশকের দিনগুলোর (দশম দিনে কুরবানীর দিন বাদে) প্রতি দিনের রোযা এক এক বছর রোযা রাখার সমান। [তিরমিযী] 

বিশেষত এই মাসের নবম তারিখ তথা আরাফার দিনের একটিমাত্র রোযা দ্বারা পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায় । [মুসলিম]

৩. রাতে ইবাদত করা : হাদীস শরীফে আছে- জিলহজ মাসের প্রতি রাতের ইবাদত শবে-কদরের ইবাদতের সমতুল্য। [তিরমিযী]

আর শবেকদরের ইবাদত এক হাজার মাস বা তিরাশি বছর চার মাস ইবাদত করার চেয়েও শ্রেষ্ঠ । [আল-কুরআন]

বিশেষত যে ব্যক্তি ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকবে, কিয়ামতের ভয়াবহতার দরুন যখন মানুষের দিল মরে যাবে, সেদিন তার দিল মরবে না; বরং সহিষ্ণু ও ধীর-স্থির থাকবে । (তাবরানী]

৪. অধিক পরিমাণে যিকির ও দুআ করা : হাদীস শরীফে আছে- জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, ‘আল্লাহু আকবার', 'আলহামদুলিল্লাহ’ বেশি বেশি করে আদায় কর । [মুসনাদে আহমদ]

সবচেয়ে উত্তম দুআ হলো নবম তারিখ তথা আরাফার দিনের দুআ। [তিরমিযী]

আরাফার দিন আল্লাহ পাক তাঁর বান্দাদের এত অধিক সংখ্যক জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন যা অন্য কোন দিনে দেন না । [মুসলিম]

তাই আরাফার দিনে নিজের জন্য ও জীবিত-মৃত মুসলমানদের জন্য বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার পড়া ।

. উচ্চস্বরে তাকবীর বলা : হাদীসে আছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর ও হযরত আবু হুরায়রা রা. জিলহজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনে বাজারে যেতেন ও তাকবীর পাঠ করতেন। আর লোকজনও তাঁদের অনুকরণ করে তাকবীর পাঠ করতেন । [বুখারী]

তাই এই দিনগুলোতে পুরুষগণ প্রকাশ্যে ও উচ্চস্বরে মসজিদ, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, বাজারসহ সর্বত্র তাকবীর বলবে । আর মহিলারা বাড়িতে নিমস্বরে তাকবীর বলবে। এ তাকবীর বলা সুন্নাত ।

তাকবীরে তাশরীকঃ

জিলহজের নয় তারিখের ফজর থেকে তের তারিখের আসর পর্যন্ত সর্বমোট ২৩ ওয়াক্তের ফরয নামাযের পর একবার তাকবীরে তাশরীক পড়া ওয়াজিব।

তাকবীরে তাশরীক হলো-

الله اكبر الله أكبر لا اله الا الله والله اكبر الله

أكبر ولله الحمد

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।

সে নামায জামাতের সাথে আদায় করা হোক বা একা। তবে মহিলাগণ চুপিসারে পাঠ করবে । [শামী]

তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব। তিনবার বলা সুন্নাত নয় ।

[রহিমিয়া]

আল্লাহ যেন সকল মুসলমানদের কে জিলহজ্ব মাসের আমল গুলো করার তাওফিক দান করেন "আমিন"