তিন প্রকারের জন্তু


 


   🔶
তিন প্রকারের জন্তু🔶

🔺🔺ইমাম গাজালি রহ . বলতেন , আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়াতে তিন ধরনের জন্তু সৃষ্টি করেছেন ।
💠এক ধরনের জন্তু আছে , যারা মানুষের শুধু উপকার করে ।
যেমন : গরু , মহিষ , বকরি ইত্যাদি । এসব জন্তু মানুষের অনেক উপকারে আসে ।

💠আরেক ধরনে জন্তু আছে , যারা মানুষকে শুধু কষ্ট দেয় । যেমন : সাপ - বিচ্ছু ইত্যাদি ।

💠এছাড়া তৃতীয় ধরনের জন্তু এ পৃথিবীতে আছে , যারা মানুষের উপকার করে না এবং ক্ষতিও করে না । 
🔺🔺তারপর ইমাম গাজালি রহ . মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন , হে মানুষ , যদি তুমি প্রথম প্রকারের জন্তু হতে না পারো , তাহলে কমপক্ষে তৃতীয় প্রকারের জন্তু হও । অর্থাৎ , মানুষের উপকারও করো না এবং ক্ষতিও করো না ।

🔶যদি উপকার করতে না পারো 🔶
 🔺🔺তারপর সাহাবি প্রশ্ন করলেন , হে আল্লাহর রাসুল , যদি আমি দুর্বল বা অক্ষম হই , ফলে অপরে উপকার করতে না পারি , তাহলে আমার করণীয় কি ? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবারও নিরাশ করলেন না । এমনই ছিলেন আমাদের প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । নিরাশা কিংবা হতাশার কোনো ইঙ্গিত তাঁর চলনে - বলনে থাকতো না । আল্লাহর রহমতের আশা তিনি প্রত্যেকের অন্তরে জাগিয়ে রাখতেন । আমলের বিকল্প আমল তিনি উম্মতকে বাতলিয়ে দিতেন ।

      🔶কারো ক্ষতি করো না🔶
      
🔺🔺 তাই এবার তিনি উত্তর দিলেন , যদি দুর্বল ও অক্ষম হওয়ার কারণে কারো উপকার করতে না পারো , তাহলে কারো ক্ষতি করো না । সবসময় লক্ষ্য রাখবে , যেন তোমার কারণে কেউ কষ্ট না পায় । এতেও সাদকার সাওয়াব পাবে । কেননা অপরকে কষ্ট দেয়া গুনাহ । আর এ গুনাহটা যখন তুমি করবে না , তাহলে এর অর্থ হলো তুমি একটি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে । আর গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও এক প্রকার সাদকা ।

     🔶 আনসারদের কুরবানি🔶 

🔺🔺সে সময়ে মদিনার বাসিন্দা আনসারি সাহাবাদের অন্তরে কুরবানির এমন এক জ্যবা আল্লাহ তৈরি করে দিলেন , যার দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল । তারা নিজেদের অর্থ - সম্পদরে সকল চাবিকাঠি মক্কার মুহাজিরদের জন্য খুলে দিলেন । চাপের মুখে নয় বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাঁরা মুহাজিরদের বরণ করে নিলেন । রাসলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে নয় বরং নিজ থেকেই তাঁরা ঘোষনা দিলেন— মুহাজিরদের জন্য আমাদের প্রত্যেকের দরজা খোলা । তারা আমাদের পরিবারের লোকের মতো । যিনি যে পরিবারে যেতে চান , নিসংকোচে যেতে পারেন । থাকা - খাওয়াসহ সব ব্যবস্থাই আমরা খুশিমনে করবো । 
🔺🔺রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আনসারদের এ আবেগ দেখে আনন্দিত হলেন । তাই তিনি মুহাজির ও আনসারদে মাঝে ভ্রাতৃত্ব তৈরি করে দিলেন । বলে দিলেন , অমুক মুহাজির আজ থেকে অমুক আনসারের ভাই । ভ্রাতৃত্বের এ আমেজে সবাই মোহিত হলেন । প্রতিজন আনসারি নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলেন একজন মুহাজিরকে । এভাবে আনসারি এবং মুহাজির হয়ে গেলেন একই পরিবারের  এমনকি কোনো কোনো আনসারি সাহাবি তখন নিজের ভাগের মুহাজিরকে এ প্রস্তাবও দিয়েছিলেন যে , আমার স্ত্রী দুইজন । যদি আপনি চান , তাহলে একজনকে আমি তালাক দিয়ে দেবো এবং আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবো । যদিও এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটেনি , তবে এমন প্রস্তাবও তাঁরা মুহাজির ভাইদের জন্য দিয়েছিলেন ।

      🔶এক আনসারির ঘটনা🔶

🔺🔺 প্রবিত্র কুরআনে আনসারদের  প্রশংসা করা হয়েছে এভাবে - 
  ويؤثرون على أنفسهم ولو کان بهم خصاصة. 
🔺🔺অর্থ : নিজেদের প্রচণ্ড প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তারা অপরকে প্রাধান্য দেয় । ( সুরা হাশর , আয়াত নং ৯ ) এক আনসারির ঘটনা । মেহমান এলো তার ঘরে ; কিন্তু মেহমানকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নেই । ঘরে সামান্য যা ছিল , তাই তিনি মেহমানের সামনে পেশ করলেন । তারপর ভাবলেন , বিষয়টি মেহমানকে বুঝতে দেয়া যাবে না । তাই খাবার খেতে বসে তিনি বাতি নিভিয়ে দিলেন এবং মেহমানকে এমন ভান দেখাতে লাগলেন যে , তিনি নিজেও খাচ্ছেন । এ পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আয়াত নাজিল হয় । আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।