কুরবানির প্রতীক পশু কেন ?


 
🔔কুরবানি হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য🔔


 কুরবানির পশু উৎসর্গ করা হবে একমাত্র আল্লাহর নামে  । আল্লাহ তাআলা বলেন 
 قل ان صلاتى ونسکى ومحياى ومماتى الله رب  .العلمين

অর্থ : বলুন , নিশ্চয়ই আমার নামাজ , আমার কুরবানি এবং আমার জীবন ও মরণ বিশ্ব - প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে ।

   ( সুরা আনআম , আয়াত নং ১৬২ ) 

        🔔কুরবানির প্রতীক পশু কেন🔔     

 মহামারি করোনাভাইরাসের সময় দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী পরামর্শ দিয়েছিল , কুরবানির পশু না কিনে সেই টাকা জাকাতের মতো গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দিতে । কিন্তু তাদের সেই পরামর্শ ওলামায়ে কেরম ও জনগণ গ্রহণ করেনি । হয়তো আপনাদের মনেও প্রশ্ন জাগতে পারে যে , কুরবানির সমপরিমাণ টাকা জাকাতের মতো গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দিলেই তো হতো ; কিন্তু তা না করে পশু কেন নির্ধারণ করা হলো ? এর উত্তর হলো- কুরবানি আল্লাহর বিধান । আর আল্লাহর বিধানে পরিবর্তন আনার অধিকার ও ক্ষমতা কারোই নেই । পবিত্র কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- 

                         .لا يسال عما يفعل  وهم يسئلون

অর্থ : আল্লাহ যা করেন , সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার কারোই নেই ; বরং মানুষ যা করে , সে বিষয়ে তারা জিজ্ঞাসিত হবে ।
 ( সুরা আম্বিয়া , আয়াত নং ২৩ )

 এছাড়া কুরবানির প্রতীক পশু হওয়ার কিছু হেকমত রয়েছে ।

💠কুরবানির প্রতীক পশু নির্ধারণ করে আল্লাহ মানুষের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করেছেন । যদি তিনি প্রিয়বস্তু হিসেবে সন্তান কুরবানি করার বিধান দিতেন , তাহলে মানুষ তা মানতে বাধ্য থাকতো ; কিন্তু খুবই কষ্টকর হতো । 

💠আল্লাহ মানুষকে দুটি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন । একটি হলো রাব্বানিয়াত তথা মনুষ্যত্ব , অপরটি হলো নাফসানিয়াত তথা পশুত্ব । ঈদুলআজহায় পশু জবাই করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের পশুত্বকে কুরবানি করার শিক্ষা ও গুণ অর্জন করে ।

        🔔কুরবানি চার প্রকার 🔔                

 💠ওয়াজিব কুরবানি । 
 💠 নফল কুরবানি । 
 💠 মান্নতের কুরবানি ।
 💠 ওসিয়তের কুরবানি ।
 ওয়াজিব কুরবানি ও নফল কুরবানির গোশত কুরবানিদাতা , তার ধনী - গরিব আত্মীয়স্বজন এবং সকল শ্রেণির মানুষের জন্য খাওয়া হালাল । পক্ষান্তরে মান্নতের কুরবানি ও ওসিয়তের কুরবানির গোশত কুরবানিদাতা , তার ধনী আত্মীয়স্বজন , যেকোনো ধনী ব্যক্তি এবং ওসিয়তকারীর ওয়ারিশগণের জন্য খাওয়া হারাম । মান্নতের কুরবানি ও ওসিয়তের কুরবানির গোশত পুরোটাই গরিবদের মাঝে সাদকা করা ওয়াজিব। 

              🔔কুরবানি কার ওপর ফরজ🔔         

 💠প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর - নারী , যে ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু এবং ঋণ ব্যতীত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে , তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব হবে । আর নিসাব হলো , স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ( ৭.৫০ ) ভরি এবং রূপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন ( ৫২.৫০ ) ভরি । এ ছাড়া টাকা - পয়সা ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্যের সমপরিমাণ হওয়া । জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে আসে না এমন জমি , প্রয়োজন অতিরিক্ত বাড়ি , ব্যবসায়িক পণ্য এবং অপ্রয়োজনীয় সকল আসবাবপত্র কুরবানির নিসাবে হিসাবযোগ্য ।
  ( ফতোয়া শামি , ৯/৪৫৭ # ফতোয়া হিন্দিয়া , ৫/৩৩৭ )

💠 যদি কারো কাছে স্বর্ণ - রূপা এবং টাকা - পয়সা এগুলোর কোনো একটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না হয় , কিন্তু সব মিলিয়ে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার মূল্যের সমপরিমাণ বা বেশি হয় , তাহলেও তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব ।
 ( আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল , ৫/৪০৭ )
 💠কোনো পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় , তাহলে পৃথকভাবে প্রত্যেকের ওপর কুরবানি করা ওয়াজিব । পরিবারের একজনের নামে কুরবানি করলে অন্য সদস্যদের কুরবানি আদায় হবে না ।
  ( ফতোয়া শামি , ৯/৪৫৪ # ফতোয়া হিন্দিয়া , ৫/২৯২) 

 💠 কমার্শিয়াল লোন বা ব্যবসায়িক ঋণ কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় নয় । ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা জীবিকা নির্বাহের জন্য যে লোন নেয়া হয় , একমাত্র এসব লোনই নিসাবের ক্ষেত্রে বিয়োগযোগ্য । তাই ব্যবসায়িক ঋণের কারণে কারো থেকে কুরবানি রহিত হবে না ।
  ( ফিকহি মাকালাত , ৩/১৫৬ )

💠 কুরবানি ওয়াজিব এমন ব্যক্তি কুরবানির নির্দিষ্ট দিন তথা ১০ , ১১ ও ১২ জিলহজের মধ্যে কুরবানি না করে থাকলে , মধ্যম মূল্যের একটা ছাগল বা ভেড়ার মূল্য সমপরিমাণ টাকা সাদকা করে দিবে । আর যদি কুরবানির নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করে থাকে এবং জবাই না করেই নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে যায় , তাহলে সে প্রাণী সাদকা করে দেয়া ওয়াজিব ।
 ( রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১ )

💠কুরবানির নিসাব পুরো বছর থাকা জরুরি নয় , বরং কুরবানির তিন দিনের মধ্যে যেকোনো দিন থাকলেই কুরবানি ওয়াজিব হয় । ( বাদায়িউস সানায়ে ৪/১৯৬ # রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২ )।