"জ্বিন নাকি ভূত"

 



"জ্বিন নাকি ভূত"

            মানুষের বিশ্বাসের বড় বৈচিত্রতা আছে । তবে কারো বিশ্বাস বাস্তব সম্মত আর কারো বিশ্বাস সম্পূর্ণই ভুল । মূলত অমুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে রয়েছে ভূত নিয়ে অদ্ভুত রকমের বিশ্বাস । এদের মধ্যে একদল পণ্ডিত ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাসী । ওরা নিজেদের বিশ্বাসের স্বপক্ষে নানান ধরণের যুক্তি , প্রমাণ ও অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন । কিন্তু আরেক দল অমুসলিম পণ্ডিত ও গুলোকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দেন । তারা জ্বিন - ভূত বলতে কিছুই বিশ্বাস করেন না । 

আসলে উভয় দলই বিভ্রান্ত । কেননা ভূত বলতে কিছুই নেই । আছে জ্বিন । জ্বিনের বিভিন্ন কার্যকলাপ মাঝে - মধ্যে দেখে শুনে কেউ কেউ সেগুলোকে ভূতের কারসাজি বলে মনে করেন । আর অন্য দল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় না মেলার কারণে জ্বিন - ভূত সবগুলিই অবিশ্বাস করেন । 

জ্বিনে বিশ্বাস : 

           মহান স্রষ্টা আল্লাহ তা'য়ালা পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় জ্বিনের কথা উল্লেখ করেছেন সুস্পষ্ট ভাষায় । প্রিয় নবীজির হাদীছেও জ্বিন বিষয়ক বহু আলোচনা পাওয়া যায় । তাই জ্বিনের অস্তিত্বে বিশ্বাস রাখার বিষয়টি ঈমান - আকিদার অংশ হয়েই দাঁড়ায় । 

জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে কুরআনের আয়াত :

 وما خلقت الجن والإنس إلا ليعبدون

 অর্থ : আর আমি জ্বিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি । ( সুরা জারিয়াত , আয়াত নং ৫৬ )

  ومن الجن من يعمل بين يديه بإذن ربه۔ 

  অর্থ : আর জ্বিন থেকে কতেকে তার ( সুলায়মানের ) সামনে তার প্রভুর আদেশে কাজ করত । ( সূরা সাবা , আয়াত নং ১২ )

   من الجنة والناس 

 অর্থ : মানুষ এবং জ্বিন জাতির মধ্য থেকে ( যারা খান্নাছ ) তাদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি । ( সূরা নাস , আয়াত নং ৬ ) 

 জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে হাদিছ

عن عبد الله بن مسعود قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لاتستنجوا بالروث و لا بالعظام فإنه زاد إخوانكم من الجن ۔ ( رواه الترمذی - ۱۸ )

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ( রা . ) থেকে বর্ণিত , নবী করীম ( সা . ) বলেন , তোমরা গোবর ও হাড় দ্বারা এস্তেঞ্জা করিও না । কেননা , তা তোমাদের ভাই জ্বিনদের খাবার । 

   ● জ্বিন কীসের তৈরি জ্বিন জাতিকে আল্লাহ তা'য়ালা আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন । যেমন , জ্বিনের আদি পিতা জান সম্পর্কে আল্লাহ তা'য়ালা বলেন ।

والجان خلقناة من قبل من نار السموم 

অর্থ : আর জ্বিনের আদি পিতা জানকে আমি ইতিপূর্বে লু’র আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছি । ( সূরা হিজর , আয়াত নং ২৭ ) 

আল্লাহ তা'য়ালা আরো বলেন :

وخلق الجان من مارج من نار . 

অর্থ : এবং জান ( জ্বিনের আদি পিতা ) কে তিনি অগ্নিশিখা থেকে সৃষ্টি করেছেন । 

( সূরা আর রহমান , আয়াত নং ১৫ ) 

   ● ইমাম জালালুদ্দিন সুয়ূতী ( রহ . ) হাদিছ থেকে “ উল্লেখ করেন যে নবী করীম ( সা . ) বলেছেন 

خلقت الملائكة من نور وخلق الجان من مارج من نار وخلق آدم مما وصف لكم .

অর্থ : ফিরিশতাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নূর থেকে । জ্বিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের শিখা থেকে । আর আদম ( আ . ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে তাই দিয়ে যার কথা ( পবিত্র কুরআনে ) তোমাদের বলা হয়েছে অর্থাৎ মাটি দিয়ে । 

জ্বিন ও শয়তানের মধ্যে পার্থক্য : 

           আমরা মুসলমান । আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি শব্দ হলো শয়তান । শব্দ ব্যতীত হাকিকত অনেকেই জানি না । আসলে শয়তান হলো জ্বিনের বিশেষ এক শ্রেণির নাম । কেননা , শয়তানের প্রধান তথা ইবলিস হলো জ্বিন । যেমন আল কুরআনের ঘোষণা

 الا ابليس كان من الجن ففسق عن امر ربه . 

অর্থ : সকলে সাজদা করল , ইবলিস ব্যতীত । সে ছিল জিনদের অন্তর্ভূক্ত । অতঃপর সে তার প্রভুর আদেশ অমান্য করল । ( সূরা কাহাফ , আয়াত নং ৫০ )

জ্বিন পাঁচ শ্রেণির : যথা 

   ১. অনুগত

   ২. সাধারণ

   ৩. শয়তান 

   ৪. মারেদ 

   ৫. ইফরিত্ব 

 ১. অনুগত : 

         যারা সীমা লঙ্গন করে না বরং নেককার এরা হলো অনুগত জ্বিন । কুরআনে জ্বিনদের ভাষায় বলা হয়েছে -

وانا منا الصالحون

অর্থ : আর আমাদের মধ্যে কতক আছে নেককার । 

২. সাধারণ :

         যাদের মধ্যে ভাল মন্দ উভয়ই কম বেশ আছে এরা হলো সাধারণ জ্বিন । কুরআনে আছে

 ومنادون ذالك

  অর্থ : আর কতেক আছে সাধারণ ।

৩. শয়তান : 

           যারা দুষ্টুমি এবং অবাধ্যতায় সীমা ছাড়িয়ে যায় এরা হলো শয়তান । 

৪. মারেদ : 

           অবাধ্যতা আরো বৃদ্ধি পেলে তাকে বলে মারেদ । 

৫. ইফরিত : 

          বিশৃংখলা চুড়ান্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেলে তাকে ইফরিত বলে । সুতরাং শয়তান , মারেদ ও ইফরিত সবগুলিই জ্বিন । والله اعلم আল্লাহ আমাদেরকে সার্বিক ইলম দান করুক । ( আমিন )