চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী বিধান



 "চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী বিধান"

নামাজ ইসলামী শরীয়তের অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ স্তম্ভ । ঈমানের পরেই নামাজের মর্যাদা । মুমিন ও কাফেরের মাঝে পার্থক্য সৃষ্টিকারী হলো এ নামাজ । মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির উপর ইবাদতের বিধান আরোপ করেছেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য , কে তার অনুগত আর কে তার অনুগত নয় । শরয়ী ইবাদতসমূহ তিন পদ্ধতিতে আদায় করতে হয় । কিছু ইবাদত শারিরীক পরিশ্রমের মাধ্যমে পালন করতে হয় । যেমন- নামাজ , রোজা , কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদি । আর কিছু ইবাদত নিছক অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে । যেমন- যাকাত , সদাকাতুল ফিতর , নফল সদকা ইত্যাদি । আর কিছু ইবাদাত শারিরীক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে হয়ে থাকে । যেমন- হজ্জ্ব , ওমরা ইত্যাদি । এ সকল ইবাদতের মধ্যে নামাজই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ । নামাজের জন্য অতিরিক্ত কিছু শর্ত- শারায়েত রয়েছে , যা অন্য কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে নাই । যেমন- তহারাত হাছিল করা , কিবলামুখী হওয়া ইত্যাদি । নামাজকে মুমিনের মিরাজ বলা হয়েছে । বিজ্ঞজনরা নামাজকে সর্বোত্তম ইবাদতের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ ব্যায়মও বলেছেন । বিচার দিবসে ব্যক্তির যাবতীয় আমলের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে এ নামাজের মাধ্যমেই । হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে 

عن أبي هريرة،قال:سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم  يقول:"ان أول ما يحا سب به العبد يوم القيامة من عمله صلاته،فان صلحت فقد أفلح وأنجح، وإن فسدت فقد خاب وخسر،

অনুবাদ : - হযরত আবু হুরায়রা রা . থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , আমি নবি করিম ( সাঃ) কে বলতে শুনেছি , কিয়ামতের দিন বান্দার যে আমল সম্পর্কে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে তা হলো , নামাজ । নামাজ ঠিক হলে , ব্যক্তি সফলকাম ও নাজাতপ্রাপ্ত হবে । আর নামাজ ঠিক না হলে , ক্ষতিগ্রস্থ ও নিরাশ হবে। ( তিরমিযি শরীফ ) | 

নামাজের হিসাব ঠিক হওয়া বা না হওয়া নির্ভর করবে ব দুনিয়ার জীবনে সঠিক পন্থায় নামাজ পড়া বা না পড়ার উপর । নামাজকে সঠিক করতে হলে শরীয়তের বাতানো পন্থায়ই তা আদায় করতে হবে । নিজের খেয়াল - খুশিমত পড়লে বা আদায় করলে চলবে না ।আল্লাহর নিকট তা গ্রহণযোগ্যও হবে না । 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন :

فويل للمصلين. الذين هم عن صلاتهم ساهون. الذين هم يراءون.

অনুবাদ:  সুতরাং পরিতাপ সে নামাজীদের জন্য , যারা তাদের নামাজে অমনোযোগী । এবং যারা মানুষদের দেখানোর উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করে । ( সুরা মাঊন , আয়াত নং ৪ ও ৫ ) 

বিশুদ্ধ নামাজের জন্য প্রয়োজন নামাজের শর্ত রোকন , ওয়াজীব , সুন্নাত , মুস্তাহাব ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি যত্নবান হওয়া । নামাজের শর্তাবলীর অন্যতম হলো , তহারাত অর্জন করা । তহারাত বলতে শরীর , কাপড় ও নামাজের নির্দিষ্ট জায়গা পাক হওয়া । সমাজে বহু মুসল্লি আছে , যারা তহারেতর ব্যাপারে খুবই উদাসীন । বহু মুসল্লি আছে , যারা সামান্য ওজরে বসে বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে থাকেন । কী ওজরে চেয়ারে বসে নামাজ পড়া শরীয়ত অনুমোদন দেয় , তাও জানে না । কিছু মুসল্লি আছে , যাদেরকে দেখা যায় সামান্য ওজর আপত্তি নিয়েই দুনিয়ার যাবতীয় কাজ করে বেড়ায় , যে কাজগুলো করতে তাকে কোমর বাকা করতে হয় , উঠতে - বসতে হয় । তাতে তেমন কোন সমস্যাও হচ্ছে না । কিন্তু এ ধরণের লোক মসজিদে আসলেই একটি চেয়ার পেতে বসে বসে নামাজ আদায় করে থাকে । বসে নামাজ পড়ার কারণে কিয়াম করতে পারে না আবার তাকে রুকু সিজদা করতে হয় ইশারায় । সরাসরি রুকু সিজদা করা আর ইশারায় রুকু সিজদা করা কি কখনো এক  হতে পারে ? না , 

তা কখনোই এক হতে পারে না । ইশারায় রুকু সিজদা করা , এটা ওজরের মাসআলা স্বাভাবিক অবস্থায় নয় । নিজে নিজে ওজর বানিয়ে নিলেই শরীয়তে তা গ্রহণযোগ্য হবে তা কিন্তু নয় । আপনি যেটাকে ওজর বলতেছেন , সেটাকে এক অভিজ্ঞ আলেম থেকে জেনে নিতে হবে তা শরয়ী ওজর কি না । ডাক্তার বললেই ওজর হয়না । ওজর নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পাশাপাশি অভিজ্ঞ আলেমেরও প্রয়োজন আছে । যাই হোক , আমরা আলোচনা করব চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার শরয়ী বিধান নিয়ে । প্রকৃত কথা হলো , দাড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হলে , জমিনে বসে নামাজ পড়বে , বসতে অক্ষম হলে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করবে । এরকম বিবরণই নবি করিম (সাঃ) এর হাদিস শরীফ ও ফিকার কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় । দাড়াতে অক্ষম হলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার বিধান হাদিস শরীফ ও ফিকার কিতাবগুলোতে পাওয়া যায় না । অথচ চেয়ারের প্রথা নবি করিম (সাঃ) এর জামানাতেওঁ ছিল । যাই হোক , যেহেতু বর্তমান সময়ে ওজরওয়ালা মুসুল্লিগণ চেয়ারে বসে নামাজ পড়ে থাকেন । তাই বিজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম এটাকে সরাসরি নাজায়েয না বলে বরং এর কতিপয় বৈধ সুরত বর্ণনা করে থাকেন । তাই আমরাও তাদের গবেষণা থেকে এ বিষয়ে কতিপয় মাসয়ালা আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করতেছি ।وماتوفيقى إلابالله 

কোন ধরণের ওজর থাকলে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ ? 

যদি কোন ব্যক্তি ফরজ নামাজে কিয়াম করতে অক্ষম হয় , তবে রুকু সিজদা করতে পারে , তাহলে সে জমিন বা খাট ইত্যাদিতে বসে নামাজ আদায় করবে । এ অবস্থায় উক্ত মাজুর ব্যক্তির মাথা ঝুঁকিয়ে রুকু করা এবং জমিন বা খাট ইত্যাদিতে মাথা রেখে সিজদা করা জরুরী । শুধু ইশারায় রুকু সিজদা করা জায়েজ নাই এবং এর দ্বারা নামাজ হবে না । তবে যদি নিয়মতান্ত্রিকভাবে যমিনে মাথা রেখে সিজদা করতে সক্ষম না হয় অথবা সিজদা করতে সীমাহীন কষ্ট হয় , তাহলে শুধু ইশারায় রুকু সিজদা করবে । আর যে ব্যক্তি দাড়াতে সক্ষম তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রুকু সিজদা করতে সক্ষম নয় , তাহলে সে দাড়িয়ে তম সংখ্যা ইশারায় রুকু সিজদা করবে । এ ক্ষেত্রে বসে ইশারা করা আবশ্যক নয় । যেহেতু তার জন্য দাড়িয়ে ইশারা করা বৈধ , তাই তার জন্য চেয়ারে বসে ইশারা করেও নামাজ আদায় করা বৈধ । তবে রুকু সিজদা করতে সক্ষম অবস্থায় চেয়ারে বসে নামাজ পড়া তার জন্য জায়েজ হবে না । উপরোক্ত যে অবস্থায় চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার অবকাশ আছে , সে অবস্থায় যদি জমিনে নামাজ পড়তে পারে , তাহলে তার জমিনে বসেই নামাজ পড়া উচিত । ফতহুল কাদীর কিতাবে আছে , 

لَوْأَوْمَأقَائمًاجاِز،إلا أنّ الْإيمَاءَقاعِدًا أفْضلُ،اِلّانّهُ أقْرب إلى السُّجُودِ

অনুবাদ : যদি দাড়িয়ে ইশারা করে  তাহলে তা জায়েজ আছে । তবে বসে ইশারা করা উত্তম । কেননা তা সিজদার অধিক নিকটবর্তী । 

( ফতহুল কাদীর , ১/৪৬০ পৃঃ ) 

হেদায়া কিতাবের ( ১/৭৭ ) পৃঃ এসেছে 

, وإن قدر على القيام ولم يقدر على الركوع والسجود ، يلزمه والأفضل هو القيام ويصلي قاعدا يومئ إيماء .. الإيماء قاعدا لأنه أشبه بالسجود .

 ফতোয়ায়ে আলমগীরী এসেছে , কিতাবে ( ১ / ১৩৬ ) পৃষ্ঠায় 

 وكذا لو عجز عن الركوع والسجود وقدر على القيام فالمستحب أن يصلي قاعدا بإيماء وإن صلى قائما بإيماء جاز خان عندنا ، هكذا في فتاوى قاضي خان.

 সুতরাং যখন ইশারায় নামাজ আদায়কারীর জন্য জমিনে বসেই নামাজ পড়া আবশ্যক নয় বরং দাড়িয়ে ইশারায় নামাজ পড়াও জায়েজ , তাই চেয়ারে বসে ইশারায় নামাজ পড়াও জায়েজ হবে । তবে চেয়ারের মোকাবেলায় জমিনে বসে নামাজ পড়া উত্তম । কেননা জমিনে বসা ব্যক্তি চেয়ারে বসা ব্যক্তির চেয়ে জমিনের অধিক নিকটবর্তী হয়ে থাকে । 

 * নামাজে কিয়াম ফরজ হওয়ার বিষয়টি কখন রহিত হবে ? 

যদি দুর্বলতা বা অসুস্থতার কারণে দাড়াতে না পারে কিংবা পারলেও তাতে মারাত্মক কষ্ট হয় বা অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকে , চাই এই আশংকা নিজ অভিজ্ঞতা বা প্রবল ধারণার ভিত্তিতে হোক  অথবা কোন নির্ভরযোগ্য দীনি ডাক্তার বলার কারণে হোক অথবা দাড়ালে মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ভয় হয় , তাহলে এ সকল অবস্থায় কিয়াম ফরজ হওয়ার বিষয়টি রহিত হয়ে যাবে । এমন লোকদের জন্য বসে নামাজ পড়া জায়েজ । তবে এ ক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত নিয়মমাফিক রুকু সিজদা করার শক্তি থাকবে , তাকে জমিনে বসে রুকু সিজদা করেই নামাজ পড়তে হবে । চেয়ারে বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ পড়লে , তা জায়েজ হবে না । আর যদি ওজরের কারণে রুকু সিজদা বা শুধু সিজদা করতে অক্ষম হয় , তাহলে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ারও অবকাশ আছে । ফতোয়ায়ে আলমগীরী কিতাবে ( ১ / ১৩৬ ) পৃষ্ঠায় এসেছে ,

 إذَاعَجَزَالْمَرِيْضُ عَنْ الْقِيَامِ صلي قاَعِدًا يَرْكَعُ ويسجد ، هكذا في الهداية وأصح الأقاويل في تفسير العجز أن يلحقه بالقيام ضرر وعليه الفتوى ، كذا في معراج الدراية ، وكذلك إذا خاف زيادة المرض أو إبطاء البرء بالقيام أو دوران الرأس ، كذا في التبيين .

  অনুরূপভাবে ফতহুল কাদীর , ৩ / ১০৮ পৃঃ এসেছে , رجل يحلقه خراج لا يقدر على السجود ويقدر على غيره من الأفعال يصلي قاعدا بإيماء ، وكذا لو كان بحال لو سجد سال جرحه ، وإن لم يسجد لا يسيل لما قدمنا في فصل المعذور ، فإن قام وقرأ وركع ثم قعد وأومأ للشخود خار ، والأول أولى ، ولو كان بحال لو صلى قائما لا يقدر على القراءة ولو صلى قاعدا قدر عليها صلى قاعدا . 

 * দাড়াতে অক্ষম কিন্তু রুকু সিজদা করতে সক্ষম , এমন ব্যক্তি হুকুম কী ? 

যে ব্যক্তি কোন ওজরের কারণে দাড়াতে না পারে কিন্তু রুকু , সিজদা করতে সক্ষম , তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ পড়া এবং ইশারায় রুকু সিজদা করা জায়েজ নাই । বরং জমিনে বসেই রুকু সিজদা করে নামাজ পড়তে হবে । খানিয়া কিতাবের , ১/১৭১ পৃঃ এসেছে 

  , وإنه عجز عن القيام وقدر على الركوع والسجود يصلى قاعدا بركوع وسجود لا يجزيه إلا ذالك . 

 * কিয়াম করতে সক্ষম কিন্তু নিয়মমাফিক রুক সিজদা করতে অক্ষম ব্যক্তি জন্য কি কিয়াম করা আবশ্যক না বসে নামাজ পড়লেই চলবে ?

 হানাফি ওলামায়ে কেরামের মতে , এমন ব্যক্তির জন্য শুরু থেকেই কিয়াম না করে জমিনে বা চেয়ারে বসে নামাজ পড়লেও হয়ে যাবে । কিয়াম তরক করার কারণে নামাজ ফাসেদ হবে না । হেদায়া , ১ / ৭৭ পৃঃ এসেছে ,

  ة يلزمه القيام ويصلي قاعدا يومئ بماء لأن ركنية القيام. للتوسل به إلى الشخدة لما فيها من نهاية التعظيم ، فإذا كان لا يتعقبة الشحود لا يكون ركنا فيتخير ، والأفضل هو الإيماء قاعدًا ؛ لأنه أشبه بالسجود .  

 অনুরূপভাবে ফতহুল কাদীর , ৩ / ১০৮ পৃঃএসেছে , 

   ( قوله : وإن قدر ) أي المريض على القيام دون الركوع والسجود بأن كان مرضه يقتضي ذلك . ( قوله : لا يلزمه ) المنفي اللزوم = فأفاد أنه لو أوماً قائما خار ، إلا أن الإيماء قاعدا أفضل ؛ لأنه أقرب إلى السجود ، وقال خواهر زاده : يومئ بلكوع قائما وبلسجود قاعدا ، ثم هذا مبني على صحة المقدمة القائلة زكية القيام ليس إلا للتوسل إلى السجود ، وقد أثبتها بقوله : لما فيها من زيادة التعظيم : أي السجدة على وجه الانحطاط من القيام فيها نهاية التعظيم وهو المطلوب ، فكان طلب القيام لتحقيقه ، فإذا سقط سقط ما وجب له .

*হাটুর ব্যথার কারণে কখনো রুকু সিজদা করে আর কখনো চেয়ারে বসে ইশারায় নামাজ পড়ার হুকুম কী ?

 যে ব্যক্তি কিয়াম ও রুকু সিজদা করতে সক্ষম এবং এমন কোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত নয় যার কারণে সে এ রোকনগুলো আদায় করতে অপারগ অথবা এ রোকনগুলো আদায় করার কারণে তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া বা সুস্থ হতে বিলম্ব হওয়ার কোন আশংকা না থাকে , এমন ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো ফরজ , ওয়াজিব এবং কমপক্ষে ফজরের সুন্নাত দাড়িয়ে আদায় করা । যদিও দাড়িয়ে নামাজ পড়তে কিছুটা কষ্ট হয় । আর উক্ত ব্যক্তির বসে নামাজ পড়ার ক্ষেত্রে বিবরণ নিম্নরূপ ক . যদি হাটুতে সাধারণ কোনো ব্যথা হয় যে ঐ ব্যথা নিয়ে সে দাড়িয়ে নামাজ পড়তে পারে এবং এর কারণে ব্যথা বেড়ে যাওয়া বা ভালো হতে বিলম্ব হওয়ার কোন আশংকা না থাকে , তাহলে তার উপর জরুরী হলো যে , সে নামাজ দাড়িয়ে আদায় করবে । এ অবস্থায় তার জন্য বসে নামাজ পড়া জায়েজ নাই । খ . যদি তার হাটুর সমস্যা এমন হয় যে দাড়িয়ে নামাজ পড়ার কারণে তা বেড়ে যাওয়া বা ভালো হতে বিলম্ব হওয়ার আশংকা থাকে , তাতে অসহনীয় কষ্ট হয় , তাহলে এমতাবস্থায় তার জন্য বসে নামাজ পড়া জায়েজ ।

*চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার পদ্ধতি কী ? 

ইশারায় নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি যদি চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করে আর সে দাড়াতে সক্ষম হয় , তাহলে সে দাড়িয়েই কেরাত পড়বে । অতপর যদি রুকু করতে সক্ষম হয় , তাহলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রুকু করবে । তবে সিজদার সময় বসে যাবে এবং ইশারায় সিজদা করবে । অতপর সিজদা থেকে উঠে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য যদি দাড়াতে সক্ষম হয় তাহলে দাড়াবে । আর যদি ভীষণ কষ্ট হয় , তাহলে বাকি নামাজ বসে ইশারায় পড়বে । তবে যেহেতু হানাফি মাযহাবের মুতুন ( মূল ) কিতাবগুলোতে সিজদা করতে সক্ষম নয় , এমন ব্যক্তির জন্য কিয়াম রহিত হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ আছে এবং দাড়াতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও বসে নামাজ পড়া উত্তম বলা হয়েছে তাই এ অবস্থায় কেউ যদি এর উপর আমল করত : 

বসে ইশারায় পূর্ণ নামাজ আদায় করে থাকে , তাহলেও তার নামাজ নষ্ট হয়েছে বলা যাবে না । মারসুত কিতাবের ১/২১৩ পৃঃ এসেছে , 

وأما إذا كان قادرا على القيام وعاجزا عن الركوع والسجود ، فإنه يصلي قاعدا بإيماء وسقط عنه القيام ؛ لأن هذا القيام ليس بركن ؛ لأن القيام إنما شرع لافتتاح الركوع والسجود به ، فكل قيام لا يعتبه سجود لا يكون وكنا ، ولأن الإيماء إنما شرع للتشبه بمن يركع ويسجد والتشبه بالقعود أكثر ، وهذا قلنا بأن . المومئ يجعل السجود أخفض من ركوعه ؛ لأن ذلك أشبة بالسجود إلا أن بشرا يقول : إنما سقط عنه بالمرض ما كان عاجزا عن إثيانه ، فأما فيما هو قادر عليه لا يسقط عنه

*চেয়ারের সামনে টেবিল রেখে তাতে সিজদা করলে তার হুকুম কী হবে ?

চেয়ারের সামনে টেবিল রেখে তাতে সিজদা করার ব্যাপারে বিশ্লেষণ হলো এই যে , কেউ চেয়ারে বসে তখনই নামাজ পড়তে পারে যখন সে রুকু সিজদা করতে অক্ষম । তাই তাকে চেয়ারের সামনে কাঠ বা টেবিল ইত্যাদি রেখে সিজদা করার হুকুম শরীয়তে দেওয়া হয়নি আর না তার কোনো প্রয়োজন আছে ; বরং সে উপরোক্ত ব্যাখ্যানুসারে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ পড়বে । 

* মসজিদে চেয়ারে বসে নামাজ পড়লে কাতারে চেয়ার রাখার পদ্ধতি কী হবে ? 

জামাতে শরিক হওয়ার সময় চেয়ার রাখার সহীহ পদ্ধতি হলো এই যে , চেয়ার এমনভাবে রাখবে যেন তার পিছনের পায়া কাতারে দাড়ানো মুসল্লিদের গোড়ালি বরাবর থাকে । যাতে বসা অবস্থায় এ সকল মাজুর ব্যক্তিদের কাঁধ অন্যান্য মুসল্লিদের কাঁধ বরাবর হয় । 

* মাজুর ব্যক্তি কাতারে ইমামের পিছনে , ডানে বায়ে কাতারের মাঝে চেয়ার রেখে নামাজ পড়তে পারবে কি না ? 

এবং সাধারণ মুসল্লিরা কি তাকে কাতারের কিনারে চলে যাওয়ার হুকুম দিতে পারবে ? উক্ত ব্যক্তি কাতারে ইমামের পিছনে , ডানে বায়ে কাতারের মাঝে চেয়ার রেখে নামাজ পড়তে পারবে এতে কোন বাধা থাকবে না । তবে তার জন্য উত্তম হলো , সে কাতারের কিনারে নামাজ পড়বে যাতে মাঝখানে চেয়ার রেখে নামাজ পড়ার কারণে কাতারে যে বক্রতা বা মাঝখানে খালি দেখা যায় , তাও না থাকে । কেননা , হাদিস শরীফে কাতার সোজা রাখা এবং পরস্পরে খুব মিলে দাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে । 

আর সাধারণ মুসল্লিদের এই অধিকার নাই যে , তারা তাকে কাতারের কিনারে চলে যাওয়ার হুকুম দিবে । তবে যদি কেউ উক্ত ব্যক্তিকে নম্রতা বা হেকমতের সাথে উপরে বর্ণিত বিষয়টি বুঝিয়ে দেয় , তাহলে তার অবকাশ আছে । আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিকভাবে আমল করার তৌফিক দান করুন । আমিন ।