ইসলামে নারীর মর্যাদা

 



ইসলামে নারীর মর্যাদা 

অথবা ,ইসলামে নারীর মর্যাদা ও সাম্প্রতিক বিশ্বে তার প্রভাব

মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন । ইসলাম একমাত্র জীবনব্যবস্থা যেখানে মর্যাদার দিক থেকে নারীকে পুরুষের থেকে ভিন্ন করে দেখা হয় নি । কিন্তু সভ্যতার জন্মলগ্ন হতে নারী ও পুরুষের মর্যাদাগত বৈষম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । মানবসভ্যতার শুরুতে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে পুরুষরা পরিবার , সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হয়ে ওঠে । ফলে নারীরা স্বাতন্ত্র্য ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকে । ইসলামই নারীর স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদাগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছে ।

ইসলামে নারীর মর্যাদা 

কন্যা হিসেবেঃ-

ইসলাম কন্যাকে পুত্রের তুলনায় কোনো অংশে খাটো করে দেখে নি । জাহেলি যুগে কন্যা প্রোথিত করার ব্যাপারে আল কুরআন কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছে । • মহান আল্লাহর বাণী- “ কিয়ামতের দিন কন্যা সন্তানকে জিজ্ঞেস করা হবে , কেন তাকে হত্যা করা হয়েছিল । 

স্ত্রী হিসেবেঃ-

ইসলাম স্ত্রী হিসেবে নারীকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছে । আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- “ তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সদাচরণ কর । " অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে “ নারীর ওপর যেমনি পুরুষের অধিকার রয়েছে , তেমনি পুরুষের ওপর নারীর অধিকার রয়েছে । ”

মাতা হিসেবেঃ-

ইসলাম নারীকে মা হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদান করেছে । জনৈক সাহাবি রসূলুল্লাহ ( স ) -কে জিজ্ঞাসা করলেন , আমার নিকট সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি হকদার কে ? সাহাবি পুনঃপুন জিজ্ঞেসের জবাবে রসূল ( স ) প্রথম তিনবার বলেছেন মায়ের কথা । চতুর্থবার বললেন পিতার কথা । এ হাদিস থেকে বোঝা যায় , ইসলাম মা হিসেবে নারীকে তিনগুণ বেশি মর্যাদা দিয়েছে । অন্যত্র রসূল ( স ) বলেন , ' নিশ্চয় তোমাদের মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত ' । 

বিবাহের মাধ্যমেঃ-

ইসলামপূর্ব যুগে বিবাহের ক্ষেত্রে নারীদের কোনোরূপ স্বীকৃত অধিকার ছিল না । ইসলাম এহেন ঘৃণিত প্রথার মূলোৎপাটন করে নারী - পুরুষের বৈবাহিক সূত্রে সম্পর্ক স্থাপন করার বিধান দিয়েছে । 

মোহরানা প্রদানঃ-

ইসলামপূর্ব যুগে বিবাহের ব্যাপারে কোনো স্থায়ী বিধান না থাকায় নারীদের জীবন ছিল অনিশ্চিত । পরবর্তীতে ইসলাম পুরুষ কর্তৃক নারীকে মোহরানা দিয়ে বিবাহ করার প্রথা প্রচলন করে । এতে তাদের মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হয় । 

সংসারের তত্ত্বাবধানঃ-

ইসলামের দৃষ্টিতে নারী - পুরুষ একে অপরের প্রতিযোগী নয় , বরং সহযোগী । এ প্রসঙ্গে রসূল ( স ) বলেন , ' স্ত্রী তার স্বামীর পরিজনদের এবং সন্তানদের তত্ত্বাবধানকারিণী। 

সম্পত্তির অধিকারঃ-

ইসলামপূর্ব যুগে নারীদেরকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হতো । বর্তমানে অন্যান্য ধর্মে নারীর সম্পত্তির উত্তরাধিকারের কোনো স্বীকৃত বিধান নেই । একমাত্র ইসলামে নারীদের যথাযোগ্য মর্যাদাসহ তাদের পৈতৃক ও স্বামীর সম্পত্তিতে নির্ধারিত অংশ দেওয়া হয়েছে । 

শিক্ষার অধিকারঃ-

ইসলামে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও জ্ঞানার্জন ফরয করা হয়েছে । এ প্রসঙ্গে রসূল ( স ) বলেছেন , ' প্রত্যেক নর - নারীর ওপর জ্ঞানার্জন ফরয ’ । 

চাকরির অধিকারঃ-

ইসলাম নারীকে অর্থনৈতিক প্রয়োজনে পর্দার সাথে কর্মে নিয়োজিত হবার অধিকার প্রদান করেছে । 

উপসংহারঃ-

মানব ইতিহাসে ইসলামই সর্বপ্রথম নারীর যথাযোগ্য অধিকার প্রদান করেছে । বর্তমান বিশ্বে প্রগতির নামে নারীদের বেপর্দাসহ সমাধিকারের দাবি তুলে বিভ্রান্ত করছে । প্রকৃতপক্ষে নারী মুক্তির স্বাদ পেতে হলে নারীদের ইসলামের দিকে ফিরে আসতে হবে ।